রবিবার ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
৫ ব্যাংক একীভূতকরণ : সংখ্যাই বলছে সংকট কতটা গভীর কনে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে, শিশুসহ নিহত ২ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত নদীর ওপর ঝুলে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৪ ভারতে যাত্রা শুরু প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের, উদ্বোধন করলেন মোদি চট্টগ্রাম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ স্থগিত চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতি ১৫০ কোটি, ভেসে গেছে মাছ ভেঙেছে সড়ক দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় হতে পারে ঝড় ২৫টি এয়ারক্রাফটে ২০ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা
Advertise with us

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ

সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের কারণে কোনও অবস্থাতেই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রস্তুত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। কোথাও বন্যার তীব্র স্রোতে সড়কের অংশ ভেঙে গেছে, কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বিটুমিনাস স্তর নষ্ট হয়েছে। আবার কিছু স্থানে সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, রফতানি-আমদানি কার্যক্রম এবং শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্র হওয়ায় চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত ২১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে যেসব সড়ক দিয়ে জরুরি পণ্য, খাদ্যশস্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ পরিবহণ করা হয়, সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথাও স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে আপাতত অস্থায়ী সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে টেকসই ও স্থায়ী পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমানোই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিকল্প সড়ক ব্যবহার, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি মেরামত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, জরুরি সংস্কারকাজ পরিচালনায় প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অর্থের অভাবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারকাজ যাতে বিলম্বিত না হয়, সে বিষয়েও সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সড়ক নির্মাণে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ, টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। নতুন প্রকল্পে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে একই স্থানে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নিতে হবে। এ জন্য প্রকৌশলীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব সেতুতে অতিরিক্ত চাপ বা ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত যোগাযোগ পুনঃস্থাপন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কোথাও সড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে সংস্কারকাজ আরও দ্রুত শেষ করা সহজ হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনঃসংস্কার নয়, ভবিষ্যতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও টেকসই, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ হবে এবং দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে। সূত্র: বাসস

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়