শনিবার ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

আদমজী ইপিজেডের রপ্তানি টানা দ্বিতীয়বার ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আদমজী ইপিজেডের রপ্তানি টানা দ্বিতীয়বার ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনস্ত আদমজী ইপিজেড। নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুট মিলের পরিত্যক্ত শিল্পভূমিতে গড়ে ওঠা ইপিজেডটির রপ্তানির পরিমাণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ছাড়িয়েছে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইপিজেডটি বর্তমানে চালু থাকা ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ। এখানে উৎপাদিত পোশাক, ব্রাইডাল পোশাক, সেফটি ফুটওয়্যার, অটোমোটিভ যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পণ্য নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে বিশ্ববাজারে।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্য অনুযায়ী, আদমজী ইপিজেডে মোট বিনিয়োগ প্রায় ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে ইতোমধ্যে। আর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এখান থেকে রপ্তানি হয়েছে ১১ দশমিক ১১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ইপিজেডটির বার্ষিক রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে পৌঁছেছে ১ দশমিক ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে, যা মূল প্রকল্প প্রস্তাবে নির্ধারিত ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান বলেন, টানা দ্বিতীয় অর্থবছরের মতো ইপিজেডটির রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে ইপিজেডটি পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির প্রাক্কলন করা হয়েছিল। কিন্তু, প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় রপ্তানি। বর্তমানে নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে বার্ষিক রপ্তানি দেড় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বেশ ভালো। তবে, ইপিজেডের সব প্লট ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়ে গেছে। তাই আমরা ইপিজেডটি আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা করছি।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, ২৯২ একর আয়তনের আদমজী ইপিজেডে বর্তমানে ৭৬ হাজার ২৭ জন কর্মরত আছেন। নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে সরাসরি কর্মসংস্থান ছাড়াতে পারে ১ লাখ।

এখানকার কারখানাগুলোতে টমি হিলফিগার, রালফ লরেন, মাইকেল করস ও ভ্যান হিউসেনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে সেফটি ইকুইপমেন্ট, ফুটওয়্যার ও অটোমোটিভ পণ্যও, যা প্রচলিত পোশাকের বাইরে বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করে আদমজী পরিবার। পরে এটিই পরিচিতি পায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাটকল হিসেবে। প্রায় ১ হাজার একর জমিজুড়ে গড়ে ওঠা মিলটি শ্রমিক আবাসন, বাজার ও স্কুলসহ একটি বড় শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে নেওয়া হয় মিলটি। তবে, আর্থিক লোকসান, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ধীরে ধীরে সংকটে পড়ে মিলটি। শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালের ৩০ জুন মিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক।

পরে পরিত্যক্ত শিল্পভূমিটি নতুনভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর জমিটি বেপজার কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয় এবং ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে আদমজী ইপিজেড উদ্বোধন করা হয়।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে আদমজী ইপিজেডে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৪ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ছিল শূন্য দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার।

দুই দশকের ব্যবধানে পাটকলের জায়গা নিয়েছে আধুনিক কারখানা। একই জমিতে বর্তমানে চালু থাকা ৪৭টি কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে ৭৬ হাজারের বেশি মানুষের।

মূলত, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থান, ভালো যোগাযোগব্যবস্থা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কারণে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে আদমজী ইপিজেড। বেপজার প্রত্যাশা, নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে ইপিজেডটিতে কর্মসংস্থান হবে ১ লাখেরও বেশি মানুষের; সেইসঙ্গে বার্ষিক রপ্তানি ছাড়িয়ে যাবে দেড় বিলিয়ন ডলার।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়