
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় দলের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে শিবিরের তোলারাম কলেজ সভাপতি ইমদাদুল হক শুভ, সেক্রেটারি তামিম ও অর্থ সম্পাদক জুহাস, মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান, অর্থ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রয়েছেন। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী তুহিন আহমেদ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকিদের নাম জানা যায়নি। তাদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর শিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, মহানগরের উদ্যোগে নিজস্ব কার্যালয়ে জুলাই নিয়ে প্রোগ্রাম চলছিল। এমন সময়ে খবর পেলাম তোলারাম কলেজ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদককে মারধর করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আমরা তাদের উদ্ধার করতে গেলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের প্রায় ১৫-২০ জন আহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাস দখলের জন্য ঝামেলা করছে। শিবিরের কারণে তারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করতে পারছে না। এজন্য শিবিরের ওপর হামলা করেছে। হামলার নেতৃত্বে ছিল তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া, সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিক, সাবেক সভাপতি পায়েল, তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক খান সুজন, সদর থানা ছাত্রদল নেতা মিলন, কদমরসূল কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাত, তোলারাম কলেজ ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন।
তবে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, ৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ছিল। ছাত্রশিবির এখানে উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দেয়। আমরা তাদের বলেছি এখানে উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দেওয়া যাবে না। এই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ছিল এবং সহাবস্থান আছে। তারা আমাদের একজনকে মেরে আহত করেছে।
সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শুনলাম গেটের বাইরে একজন আহত হয়েছে। ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। প্রশাসনকে জানানোর পর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি ও এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
