
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সরকারি অফিস চলাকালীন পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অপরাধে ডা. মইনুল হাসান চিশতী নামের সরকারি চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল ও চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ (৬ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে চিকিৎসক ডা. মইনুল হাসান চিশতীকে রোগী দেখার সময় হাতেনাতে আটক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মইনুল হাসান চিশতী নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট।
তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় অফিস চলাকালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম করে আসার অভিযোগে ডা. মইনুল হাসান চিশতীর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওই চিকিৎসকের অফিস থেকেও তাকে শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা তোয়াক্কা না করে সরকারি হাসপাতালের একটি ভুয়া বা জাল পদত্যাগপত্র তৈরি করেন। সেই জাল কাগজ দেখিয়েই তিনি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার নিয়ে রোগী দেখা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
একইসঙ্গে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকেও নির্দেশ দেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে একজন সরকারি চিকিৎসককে চেম্বার করতে দেওয়ায় এবং এই অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করার অপরাধে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন সরকারি চিকিৎসক চাকরি পরিবর্তন বা অন্য কোথাও কাজ করতে চাইলে তার রেজিগনেশন লেটার ও এনওসি বাধ্যতামূলক। কেবল চিকিৎসকের কথার ভিত্তিতে তাকে রোগী দেখার সুযোগ দেওয়া আইনসম্মত নয়। লাভের আশায় এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ম্যানেজার নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ না করা তাদের ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক রেখে জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ কেউ যদি সরকারি দায়িত্ব ফেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান– উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
