
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ঘটনাস্থলে স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণকাজ শুরু করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুরদের ওপর বাসটি উঠে যায়।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ঘটনাস্থলে স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণকাজ শুরু করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাজমুল (৪৫) নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি জয়পুরহাট জেলায়। এর আগে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আমিরুল ও নূর আলমের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, রংপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। স্থানীয় গৃহস্থরা সেখান থেকেই তাদের দৈনিক মজুরিতে কাজে নিয়ে যান।
শুক্রবার ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের চাপা দিয়ে উল্টো দিকে ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে থেমে যায়।
এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনায় এরুলিয়া বানদীঘি এলাকার এক শ্রমিকের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।
এরুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বৃষ্টির মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গাড়িটি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আবু হোরায়রা বলেন, নিহত ও আহতরা সবাই অত্যন্ত দরিদ্র দিনমজুর। তাদের অনেকেই রাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বারান্দায় অবস্থান করে ভোরে কাজের আশায় শ্রমিকের হাটে এসেছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ওই স্থানে স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সওজ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু করলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
