
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযানের নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ ভরি সোনা আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি হলেন- মামলার বাদী ব্যবসায়ী নিঝুমের দুলাভাই ও সদর উপজেলার চকআলমপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। ইতোমধ্যে মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারে অভিযান চলছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত শনিবার গভীর রাতে সদর থানায় মামলা হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর সোনা ব্যবসায়ী নিঝুমের ভাইয়ের জুয়েলার্সের দোকান থেকে অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে সোনা পাঠানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৪০ ভরি গলিত সোনাের একটি চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঠানো হলে সেটি নিয়ে আসেন নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী।
গত ৮ আগস্ট সদর উপজেলার কালীনগর ব্রিজের পাশে এক ব্যবসায়ীর কাছে সোনাের চালানটি পৌঁছে দেওয়ার পরপরই সেখানে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজন উপস্থিত হন। অভিযোগ, নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তারা ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ ভরি সোনা নিয়ে চলে যান।
নিঝুমের অভিযোগ, মোহাম্মদ আলী, তার ছেলে নয়ন ও কনস্টেবল জাকির মিলে সোনাগুলো ভাগ-বাটোয়ারা করেন। ঘটনার পর কনস্টেবল জাকির এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে অফিসার্স মেসে যোগ দেন তিনি। পরে সোনা আত্মসাতের অভিযোগ জানাজানি হলে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
ঘটনাটি অনুসন্ধানে জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। এরই মধ্যে শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় আরও দুজনের নাম উল্লেখ করে একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর রাতেই কনস্টেবল জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী তার কাছে থাকা সোনাের অংশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন এবং বাকি সোনা কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে জাকির হোসেন এখন পর্যন্ত অভিযোগের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনাের পরিমাণ সাড়ে ২০ ভরি। বাকি সোনা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
