
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
ফকির মাহবুব আনাম জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বর্তমানে সি-স্টেজে রয়েছে। এ পর্যায়ে প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ তাপীয় সক্ষমতা অর্জন করেছে।
এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো হবে। এরপর জেনারেটর চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও বেশ কিছু কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি খুলে পুনরায় পরীক্ষা ও মেরামত করা হবে। প্রয়োজনে দুই, তিন কিংবা চারবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে না।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগোলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় জড়িত থাকায় নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া যাচ্ছে না।
মন্ত্রী আরও জানান, একটি ভিভিআর ভালভের সমস্যা সমাধানে প্রায় দুই মাস কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রূপপুর প্রকল্পে বাংলাদেশি ও রাশিয়ান বিজ্ঞানী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ মাঠপর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করছেন। আগে প্রায় ৪৯ জন রাশিয়ান বিজ্ঞানী এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পের কাজ চলছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা তুলে ধরে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, শুরুতে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
