
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প; এই পাঁচ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি শিল্প, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে দুই দেশের সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আজ (বুধবার, ২৮ অক্টোবর) টোকিওর জেট্রো হলে বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে প্রধানমন্ত্রী এসব খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের অংশীদারত্বের পরিকল্পনা উঠে আসে। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দূর করতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো এবং পূর্বানুমানযোগ্য কর ও শুল্কব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।
মোটরযান উৎপাদন
প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে মোটরযান উৎপাদনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টয়োটা বাংলাদেশে যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনা জানিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশের বড় ভোক্তাবাজারকে এ খাতে বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৮ কোটির বেশি মানুষ, তরুণ শ্রমশক্তি ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।’
জ্বালানি
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার জ্বালানি খাত। এলএনজি অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ আছে।’ জাপানের জেরা কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা
তৃতীয় খাতে রয়েছে প্রযুক্তি ও মহাকাশ। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ–জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি।
মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলেও জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী বাংলাদেশ। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়নের সময়সূচি বা বিনিয়োগের পরিমাণ বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থা
চতুর্থ অগ্রাধিকার রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে দেশব্যাপী উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
এজন্য মাস্টারপ্ল্যান, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় জাপানি সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজেও কারিগরি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প
পঞ্চম খাতে দেশের ফসল, ফলমূল ও শাকসবজিকে কেন্দ্র করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আড়াইহাজারের বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে অঞ্চলটি গড়ে তুলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাঁচ খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পর্কের সীমাবদ্ধতাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার হিসাবে, বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম চালালেও দেশটির প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এখনো ৫০ কোটি ডলারের কম। সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি ডলার, বিপরীতে আমদানি ২১৬ কোটি ডলার।
চলতি বছর স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থা ও ব্যবসা পরিচালনার নিশ্চয়তা তৈরিকে সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ।’
