
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, মার্কিন ট্যারিফের চাপ, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সবকিছু ছাপিয়ে আবারো পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ। ইউরোপ-আমেরিকার পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়ায় এই সাফল্য- বলছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এলসি ছাড়া রপ্তানির জন্য বিনা খরচে কাপড়সহ সবধরনের কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বাড়ানোয় ক্রেতাদের আগ্রহ ও আস্থা বেড়েছে। এতে পোশাক শিল্পে চীনের বিনিয়োগও বেড়েছে।
দেশিয় ও বৈশ্বিক নানাবিধ সংকট এবং মার্কিন ট্যারিফের চাপে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে হোঁচট খায় তৈরি পোশাক রপ্তানি। টানা দুই যুগ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পর গত বছর ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে রপ্তানি। নানা চ্যালেঞ্জ জয় করে প্রথম প্রান্তিকে আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে তৈরি পোশাকখাত। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসে রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।
শিল্প মালিকরা বলছেন, পোশাক ক্রেতারা বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে এলসি ছাড়াই বিনা খরচে ক্রয়াদেশের ৭০ শতাংশ ফাইবার আমদানির সুযোগ দিয়েছেন। এতে রপ্তানিকারকদের ঝুঁকি ও খরচ কমেছে। চীন রপ্তানি পণ্যের কাঁচামালের প্রধান যোগানদাতা হওয়ায় মার্কিন উচ্চ শুল্ক এড়াতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীনের বিনিয়োগকারীরা।
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী বলেন, ‘চিনের বেশ কিছু পণ্য আমরা আমাদের এখানে তৈরি করছি। এমনি চাইনিজ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে চলে এসেছে। চায়নায় যেহেতু করা যাচ্ছে না কিছু পণ্য তৈরি। তাই এখানে তৈরি করা হচ্ছে। ফলে আমরা বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারছি।’
বাংলাদেশ ফ্রেইটফরওয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল অলম সুজন বলেন, ‘চায়নার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে ব্যবসা করে আগ্রহী হচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। তাই তাদেরকে যদি সুযোগ সু্বিধা দেয়া যায় তাহলে আমাদের রপ্তানির বাজার আরও বাড়বে।’
অর্থ বছরের শুরুতে জুলাইয়ে রপ্তানি কম হলেও ইউরোপ-আমেরিকার পাশাপাশি অন্য বাজারেও রপ্তানি বেড়েছে। চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ। শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপানেও বেড়েছে রপ্তানি।
বিজিএমইএ’র পরিচালক সাইফুল্লাহ মনসুর বলেন, ‘জাপানে সঙ্গে তো আমরা কাজ করছি। আর সরকারও কাজ করছে কিভাবে এই খাতকে এগিয়ে নেয়া যায়।’
রপ্তানি বাড়লেও জ্বালানি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা কাটেনি এখনো। অভ্যন্তরীন খরচ বৃদ্ধির কারণে মূল্য নিয়ে দরকষাকষিতে প্রতিযোগী দেশগুলো থেকে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। তাই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন পোশক শিল্প মালিকরা।
ক্লিফটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। কেননা দেশের বাজারে গ্যাস-বিদ্যুতে দাম বাড়ার কারণে বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কনটেইনার পরিবহন কমেছে। জুলাইয়ে ৮৭ হাজার ও আগস্টে ৮৬ হাজার একক রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার শিপমেন্ট হলেও সেপ্টেম্বর কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার।
