
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, ‘আমরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাব বলে আশা করছি। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে যে শাস্তির বিধান রয়েছে, তা নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তী তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সভা ডেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন।’ তিনি আরও বলেন, তদন্তে দোষী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হবে। তাঁদের নাম উল্লেখ করে মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঘটনার পেছনে ইন্ধন ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
আন্দোলনকারীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল: হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে মামলা করে দ্রুত গ্রেপ্তার, জড়িতদের সাময়িক বহিষ্কার, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে স্থায়ী বহিষ্কার এবং যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাঁদের সনদ বাতিল করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
এ ছাড়া হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ এনে তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। ঘটনার সময় উপস্থিত থেকেও দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগের দাবিও জানান তাঁরা।
পরে রাত ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিক্ষোভকারীদের ছয় দফা দাবি নিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়। পরে দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো জানান।
আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয়টি দাবি জানিয়েছিলাম। প্রশাসন এর মধ্যে একটি দাবি ইতিমধ্যে পূরণ করেছে এবং বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য তিন দিন সময় নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রশাসনকে তিন দিন সময় দিয়েছি। এই তিন দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সংবাদ সাংবাদিকরা কভার করবেন না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
