
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এর প্রেক্ষিতে ডা. জাহেদ উর রহমান আশ্বাস দেন, সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইনের আপত্তিগুলো বিবেচনা করবে।
আজ (শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর) ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) আয়োজনে ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে গণমাধ্যমের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা আপত্তির প্রেক্ষিতে উপদেষ্টা এমন আশ্বাস দেন। এ অনুষ্ঠানে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
সাইবার অপরাধ দমনে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও খসড়া এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে প্রকাশ পেয়েছে সংশোধনী প্রস্তাব। প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে এর মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও বাক স্বাধীনতার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ আইনে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতিকারের ব্যবস্থা করারও তাগিদ জানানো হয় আলোচনা অনুষ্ঠানে।
গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সাইবার সুরক্ষা আইনকে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়ক করার আহবান জানান জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন করে স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। এছাড়া গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আইন সংশোধনের সুপারিশ করেন তারা।
এসময় সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অতিরিক্ত সংকটে আছি। এর মধ্যে এই ধরনের আইন করার মধ্য দিয়ে আমাদের সংকটটা আরও তীব্র হবে, আমাদের হাত-পা আরও বাঁধা হবে। আমি মনে করি এ আইন করলে, যারা যে উদ্দেশ্যে এ আইনটা করতে চাচ্ছে, সেই উদ্দেশ্য সফল হবে না। এই অর্থে বলছি যে, তারা হয়তো সফল হবেন, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হবে। এর ফলে আবারও একদলীয় শাসনের দিকে যেতে পারে।’
সাংবাদিক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘এই আইনটা এমনভাবে করতে হবে যেন একদিকে অপরাধ থামানো যায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাহত না করে।’
অনুষ্ঠানে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ করে নতুন করে কাউকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা। এদিকে বিজেসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন আইনের প্রয়োগ নয়।
সাংবাদিক ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে ফ্যাসিবাদ, ফ্যাসিস্ট এবং ফ্যাসিবাদের দোসর—এই শব্দগুলো আমরা অনেক বেশি ব্যবহার করি। আমরা এই ফ্যাসিবাদকে একটা ভয়াবহ রূপ হিসেবেই দেখি সবসময়। আমরা কোনোভাবেই চাই না, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই ফ্যাসিবাদের তকমাটা ধারণ করুক।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আপনাদের কনসার্ন নিশ্চয়ই সরকার বিবেচনায় নেবে। আমি নিজেও এটাকে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবো, আমি এখানে উপস্থিত ছিলাম। আমি অনেককিছুর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একমতও প্রকাশ করি। তবে তর্কের খাতিরে আবারও বলছি, যদি এটা হুবহু একইভাবে পাশ হয়ে যায়, তারপরও এই সরকার আগের সরকারের মতো করে এই আইন ব্যবহার করবে না।’
এছাড়া মিডিয়ার সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সরকারের ভুলগুলো গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরারও আহ্বান জানান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
