শনিবার ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
বৃষ্টিস্নাত কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর, আহত বেশ কয়েকজন সদস্য উপকূলীয় সাত অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস ইট মেরে মোটরসাইকেল চালককে আহত,গ্রেপ্তার ২ মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট নিয়ে আজ সংসদে যাচ্ছে তারেক রহমানের সরকার ৫৪ বছরে বাজেটের মঞ্চে অর্থমন্ত্রীদের আলোচিত যত বক্তব্য বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনা সশস্ত্র বাহিনীর ওপর বড় আঘাত ছিল: প্রধানমন্ত্রী জর্ডানের ঘাঁটিতে মিসাইল আঘাত হানার দাবি ইরানের
Advertise with us

এক যুগেও কার্যকর হয়নি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার রায়,নিহতদের পরিবারে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এক যুগেও কার্যকর হয়নি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার রায়,নিহতদের পরিবারে ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ১২ বছর আজ। আপিল বিভাগের ধীরগতিতে মামলাটির রায় কার্যকর হয়নি এখনও। এতে নিহতদের পরিবারের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ আর হতাশা। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে বলে দাবি নিহতদের স্বজনরা।

২০১৪ সালের আজকের দিনে, নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা শেষে ফেরার পথে অপহৃত হন সেসময়কার সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের সহযোগী তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবী চন্দনের গাড়িচালক ইব্রাহিমকে। এর তিনদিন পর শীতলক্ষ্যায় ভেসে ওঠে সবার মরদেহ।

পরে ফতুল্লা থানায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে আলাদা দুইটি মামলা করেন। আসামিদের স্বীকারোক্তি ও স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন আদালত। এতে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‍্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদন্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে উচ্চ আদালতে ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখে, অন্য আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে, মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আটকে আছে। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় রায় এখনও কার্যকর হয়নি বলে দাবি নিহতদের স্বজনদের।

নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বলেন, এই মামলার জন্য আমরা অনেক লড়াই করেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমরা আর পারছি না। না হলে মামলাটি এভাবে ঝুলে থাকবে কেন? এখানে তো গোপন কিছু নেই। সবই প্রকাশ্যে, আর যারা জড়িত ছিল তাদের বিষয়ও প্রমাণিত।

আর নিহত তাজুলের ভাই রাজু আহমদ বলেন, কী অদৃশ্য শক্তির কারণে প্রায় ৮ বছর ধরে এই হত্যা মামলাটি আপিল বিভাগে ঝুলে আছে, তা আমরা জানি না। তবে আমরা মনে করি, আসামিরা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আদালত বা বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে।

এদিকে, আইনজীবীরা বলছেন, সাজাপ্রাপ্তরা আওয়ামী লীগের নেতা ও তাদের সংশ্লিষ্ট হওয়ায় রায় কার্যকর হয়নি। রায়টি কার্যকর হলে দেশে গুম খুনের সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খাঁন বলেন, এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে এটা যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় সেটার জন্য আমরা উপরের লেভেলের যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি এবং করছি। আশা করি দ্রুত সময়ে আপিল নিষ্পত্তি হবে এবং আসামিদের সাজার রায় কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক, হতাশাজনক এবং চরম ব্যর্থতার উদাহরণ। বিচার বিভাগের এমন অবস্থা চলতে দেওয়া বড় সমস্যা। এতে বোঝা যায়, দেশে আইনের শাসন অনুপস্থিত। আইনের শাসন থাকলে এই মামলার বিচার অনেক আগেই সম্পন্ন হতো।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়