
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরানের পাল্টা হামলার শুরুর দিনগুলোতেই তেল আবিব সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আইকনিক আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা পাঠিয়েছিল। বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত একাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর ছেপেছে অ্যাক্সিওস।
কেবল আয়রন ডোম-ই নয়, তা পরিচালনায় আরব দেশটিতে সেনাও পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা আয়রন ডোম স্বল্পপাল্লার রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবেলার জন্য বিখ্যাত।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনায় লাগাতার হামলা চালিয়ে যাওয়ায় আবু ধাবি মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়েছিল।
ধেয়ে আসা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা গেলেও কিছু আরব আমিরাতের বিভিন্ন বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যে আঘাত হানে। এতে বাধ্য হয়েই আমিরাতের নেতৃত্বকে সাহায্য চাইতে হয়।
নেতানিয়াহুকে ফোন এমবিজেডের
আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের (এমবিজেড নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত) সঙ্গে এক ফোনালাপের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইন্টারসেপ্টরসহ একটি আয়রন ডোম ব্যাটারি ও কয়েক ডজন সেনা কর্মকর্তাকে পাঠাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছিলেন, অ্যাক্সিওসকে বলেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
ওই পদক্ষেপে সেসময় ইরানি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া আবু ধাবি ব্যাপক উপকৃতও হয়।
ইসরায়েলের পাঠানো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে সংযু্ক্ত আরব আমিরাত কয়েক ডজন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতও করে বলে আরেক ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায় অ্যাক্সিওস।
আবু ধাবির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত ইরান আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে সাড়ে পাঁচশ ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন ছুড়েছিল।
আমিরাত-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে
সঙ্কটকালে আয়রন ডোম পাঠানোর ভেতর দিয়ে আরব আমিরাত-ইসরায়েল সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে, বলছে অ্যাক্সিওস।
এবারই প্রথম ইসরায়েল বিদেশে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা পাঠালো, বলেছেন এক ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পর আয়রন ডোম ব্যবহার করা তৃতীয় দেশও হল আরব আমিরাত।
ইরান যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যে একে অপরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছিল, দুই দেশের কর্মকর্তারা তা জোরের সঙ্গেই জানিয়েছেন।
আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের (এজিএসআই) জন্য লেখা এক নিবন্ধে আরব আমিরাতের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা তারেক আল-ওতাইবা ইসরায়েলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, তেল আবিবই আবু ধাবিকে ‘প্রকৃত সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছিল’।
“মূলত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-ই ব্যাপক সামরিক সাহায্য, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কূটনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রকৃত মিত্র হিসেবে প্রমাণ করেছে,” লিখেছেন এক সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা আল-ওতাইবা।
সংকটকালে ইসরায়েলের সহযোগিতার কথা আরব আমিরাত ‘ভুলবে না’, অ্যাক্সিওসকে এমনটাই বলেছেন এক আমিরাতি কর্মকর্তা।
আরেক কর্মকর্তা ইরানের টানা হামলার সময় সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশেরও প্রশংসা করেন। “এটা ছিল প্রকৃতই চোখ খুলে দেওয়ার মুহূর্ত, কারা আমাদের প্রকৃত বন্ধ, তা দেখার জন্য,” বলেছেন তিনি।
