সোমবার ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সংসদের চলতি অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই দেশজুড়ে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদের এই অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার সংসদের বৈঠকে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

‌’অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করা’- শীর্ষক এই নোটিশ উত্থাপন করে বিএনপি দলীয় সদস্য নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, রাত হলেই বুনো উল্লাস, দমে না সিসা লাউঞ্জ। রাজধানীর অভিজাত এলাকার আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে উঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করা যাচ্ছে না। বারবার অভিযান চালানো হলেও বন্ধ হচ্ছে না। কেউ কেউ ঠিকানা পরিবর্তন করে। কেউ কেউ প্রশাসনের কিছু ইঙ্গিতে চালাচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার জাতির কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছে। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সারাদেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এদেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে এর কোনো বিকল্প নেই।

সিসা বারের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে অভিযুক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও বারিধারার মতো অভিযাত এলাকায় রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে ব্যবসার আড়ালে অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল, সেখানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ড হতো। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে সিসা বার বন্ধ করা হলেও পরে প্রভাব খাটিয়ে তা চালু করা হত। বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমেও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়