
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অবিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দলটি আজ বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরীতে প্রতিবাদী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকায় বিকেল পাঁচটায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ হবে।
গতকাল বুধবার জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গতকাল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর। বাড়তি দামের চাপ পড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর।
জামায়াতের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, তাড়াহুড়া করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সাবেক এই সংসদ সদস্য তাঁর বিবৃতিতে বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চরম ও নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। আসন্ন বাজেট সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এর ওপর আবার বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে।
বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে। চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়বে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মূলত বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না। তাঁরা সরকারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
দেশের বিদ্যুৎ খাতের সব দুর্নীতি, অপচয় ও লুটপাট বন্ধ করে জনস্বার্থ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘একই সাথে, দেশের আপামর জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’
একই বিবৃতিতে জামায়াতের প্রতিবাদী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, সরকার কর্তৃক বিদ্যুতের অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) জামায়াতের সব মহানগরী সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। আর সংগঠনের ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ হবে।
