রবিবার ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড কিছুক্ষণ পরই শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়, আদালতে আসামিরা আধা ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু ঢাকা মহানগরকে বাসযোগ্য মনে হয় না ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য চোখের জল ফেলেছেন, প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব’ বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২ বিমানবন্দরে আগুন: তদন্তে কমিটি,সকালেই প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও পদ্মায় ডুবে গেলো বাস সরকারি বাসে বেসরকারি থাবা, পকেট ভরছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা
Advertise with us

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: প্রবাসীদের ভাগ্য বদলের প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: প্রবাসীদের ভাগ্য বদলের প্রত্যাশা

মালয়েশিয়ায় লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির ভাগ্য উন্নয়ন, বন্ধ শ্রমবাজারের টেকসই সমাধান এবং কনস্যুলার সেবা সহজীকরণের প্রত্যাশা নিয়ে দুই দিনের সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে।

বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি ডায়াসপোরাদের দীর্ঘদিনের দাবি—অবৈধ কর্মীদের বৈধকরণ, কুয়ালালামপুরের বাইরে স্থায়ী কনস্যুলার দপ্তর স্থাপন এবং প্রবাসী সন্তানদের জন্য ‘বাংলাদেশি স্কুল’ প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোনে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সেই সুবাদে বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরের সূচনা করতে যাচ্ছেন। আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের এই ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি দেশটিতে অবস্থান করবেন।

আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়ার কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য হিসেবে দেশটিকে নির্বাচন করা নিঃসন্দেহে একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়; বাণিজ্য, শ্রমবাজার, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম। ১৯৭৮ সালে মাত্র ২৩ জন কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে শুরু হওয়া এই শ্রম অভিবাসনের যাত্রা আজ লাখ লাখ প্রবাসীর জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন।

যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা—সাধারণ কর্মী নিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে, নানা অভিযোগ ও অনিয়মের কারণে ৩১ মে ২০২৪ থেকে বন্ধ থাকা সাধারণ কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালু করার টেকসই পদ্ধতি নির্ধারণ করা এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আটকেপড়া ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মীর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে বোয়েসেলের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৮০০ জন মালয়েশিয়ায় কর্মে নিযুক্ত হয়েছেন।

দুবাই ও সৌদি আরবের মতো মালয়েশিয়ায় ‘বাংলাদেশি স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া নিয়োগকর্তার সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে যারা সময়মতো ভিসা রিনিউ করতে না পেরে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তাদের বৈধকরণ করতে হবে। – মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি

মানবসম্পদ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উভয় সরকার মিলে একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী টেকসই ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করলে তা প্রবাসীদের নিরাপদ ও স্বল্প খরচে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনে মাইলফলক হয়ে থাকবে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকেও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে দুবাই ও সৌদি আরবের মতো এখানেও ‘বাংলাদেশি স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি, ভিসা জটিলতার কারণে অনেক প্রবাসী বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। নিয়োগকর্তার সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে যারা সময়মতো ভিসা রিনিউ করতে না পেরে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তাদের বৈধকরণের দাবিও প্রবাসীদের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে জানানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে হাইকমিশনের সেবার পরিধি বাড়াতে মালয়েশিয়ার সাবা, সারাওয়াক, পেনাং ও জহুর প্রদেশে কনস্যুলার সেবা প্রদানের স্থায়ী দপ্তর করার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে সাবা ও সারাওয়াক প্রদেশের সঙ্গে আকাশপথ ও সাগরপথ ছাড়া কোনো যোগাযোগ না থাকায় প্রবাসী কর্মীদের কুয়ালালামপুরে এসে সেবা নিতে ব্যাপক অর্থ, শ্রম ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। সেখানে কূটনৈতিক দপ্তর না থাকায় স্থানীয় নিয়োগকর্তারাও কর্মী নিয়োগে নিরুৎসাহিত হন।

কেলান্তানে কর্মরত প্রবাসী কর্মী নাজিম উদ্দিন নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘অনেক দূর থেকে কুয়ালালামপুরে বারবার আসা-যাওয়া খুবই কষ্টকর। আসলেও একদিনের বেশি ছুটি মেলে না, অথচ কমপক্ষে তিন দিন সময় লাগে। দুই দিনের বেতন ছেড়ে দিতে হয়, তার ওপর কুয়ালালামপুরে থাকা-খাওয়ার বাড়তি খরচ তো আছেই। অনলাইন পদ্ধতি ও মালয়েশীয় সরকারের সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সহায়তা নিলে খুব কম খরচে অনায়াসে আমাদের নিকট দূতাবাসের সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে আমাদের অর্থ ও কষ্ট দুই-ই লাঘব হবে।’

মালয়েশিয়া যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারপ্রধানের এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও সম্প্রসারণের ব্যাপারেও ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। মালয়েশিয়া প্রবাসীরা অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

মালয়েশিয়া প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মীবান্ধব শ্রমবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা এলে তা হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য বড় সুখবর হবে।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগ অংশীদার। টেলিকম ও নির্মাণ খাতের পাশাপাশি নদী খনন (ড্রেজিং) ও টানেলিং প্রযুক্তিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার সর্বাধুনিক ড্রেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের নদীগুলোর খনন করা গেলে প্রতি বছরের বন্যা ও ফসলের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

এমনকি নদী খননের পলি ও মাটি রপ্তানিও করা সম্ভব, যা নিয়ে এরই মধ্যে মালদ্বীপ আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণের মতো জনবহুল শহরের যাতায়াত ও সুয়োরেজ ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়ার বিশ্ববিখ্যাত ‘স্মার্ট টানেল’ প্রযুক্তির প্রয়োগ বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে।

বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ২৮০-৩০০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে আমদানি প্রায় ২.৫-২.৬ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) কার্যকর করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

এছাড়া মালয়েশিয়ার সুশৃঙ্খল কনজুমার পণ্য ব্যবস্থাপনা ও সাপ্লাই চেইন প্রযুক্তি বাংলাদেশে প্রয়োগের মাধ্যমে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে যৌথ সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। তবে পড়াশোনা শেষে তাদের জন্য ‘পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক’ বা গ্র্যাজুয়েট পাসের মাধ্যমে চাকরি খোঁজার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও শিক্ষকদের মেধাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও আন্তর্জাতিক মানের সেবার কারণে মালয়েশিয়া এখন বাংলাদেশিদের জন্য জনপ্রিয় মেডিকেল ট্যুরিজম গন্তব্য। মালয়েশিয়ার ‘কেপিজে’ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মতো অন্যান্য নামী প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশের কারিগরি ও প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা গেলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

এছাড়া মালয়েশিয়ার শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ব্যাক-অ্যান্ড অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং ও প্যাকেজিং (এটিপি) খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রবাসীদের জন্য নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে পারে।

শিক্ষাবিদ ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক নিশ্চিত করা, সেমিকন্ডাক্টর ও আইটি খাতে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, স্মার্ট এগ্রিকালচার এবং মালয়েশিয়ার শিক্ষা উন্নয়ন মডেল থেকে শিক্ষা গ্রহণ এই চারটি বিষয় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

অন্যদিকে সানওয়ে ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ড. খালেদ শুকরান মনে করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদারে এই সফর অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

‘ভবিষ্যতের শ্রমবাজার হবে দক্ষতা-নির্ভর। কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভিং ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির শিল্পে কর্মীদের ভাষাজ্ঞান ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা গেলে প্রবাসীরা উচ্চ বেতন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।’

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই আসন্ন সফর মালয়েশিয়ায় থাকা লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির ভাগ্য উন্নয়ন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে-এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন এবং ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সূচি প্রায় চূড়ান্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ থেকে ২২ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি আগে ঢাকায় ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে অভিবাসন ও জনশক্তি রপ্তানি। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সফরটি প্রবাসীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর সাধারণত বড় কোনো কৌশলগত বা অর্থনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখেই অনুষ্ঠিত হয়। সে বিবেচনায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হতে পারে।

সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‌শ্রমবাজারটা খুলে যাবে। ১০ থেকে ১৫ দিন কিংবা এক মাসের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত তথ্য না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথমবার বন্ধ হয়েছিল ২০০৮ সালে। পরে ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হলেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালে আবারও তা স্থগিত করা হয়।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন প্রবাসীরা। তাদের বিশ্বাস, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ সুগম হবে, আনডকুমেন্টেড কর্মীদের জন্য ইতিবাচক সমাধান আসবে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। সেই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও বাস্তব রূপ পাবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়