বৃহস্পতিবার ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গলার কাঁটা অটোরিকশা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১২১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গলার কাঁটা অটোরিকশা

আর মাত্র কয়েকদিন পরই মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটবেন লাখো মানুষ। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে বাড়বে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ। তবে ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করা ইজিবাইক বা অটোরিকশা। কিন্তু পুলিশ বলছে, মানুষের ভোগান্তি এড়াতে তারা এসব যানের প্রতি কঠোর হবে।

সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নিয়মিতই দেখা যায় তিন চাকার এসব যানবাহন অবাধে চলাচল করচ্ছে। এছাড়াও কাঁচপুরের পর অর্থাৎ সোনারগাঁ অংশেও এর দৌরাত্ম্য অনেক। মহাসড়কে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আইন অমান্য করে অবৈধ এই বাহন হাইওয়ে পুলিশের চোখের সামনেই চলাচল করছেন। অথচ বিষয়টি নিয়ে যেনো তেমন কোনো তৎপরতাও চোখে পড়ে না। এরফলে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। যা প্রায় নিয়মিত ছোটখাটো ঘটে চলছে।

সচেতন মহলের মতে, ঈদযাত্রার আগে মহাসড়কে নিষিদ্ধ এইসব যানবাহনের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে ঈদের সময় মহাসড়কে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। তবে অটোরিকশা চালকদের দাবি ভিন্ন। তারা জানান, জীবিকার তাগিদেই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে তাদের।

যানজটের জন্য তারা এককভাবে দায়ী এমন অভিযোগও মানতে নারাজ চালকরা। বরং নিরাপদ চলাচলের জন্য মহাসড়কে অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরির করা উচিত বলে মনে করেন।

অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই অটোরিকশার পক্ষেই মত দিচ্ছেন। তাদের মতে, অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় কম খরচে ও সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে অটোরিকশাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। তাই ঝুঁকি জেনেও অনেকেই এই বাহনেই গন্তব্যে পৌঁছান।

বাসচালকদের অভিযোগ, ব্যস্ত মহাসড়কে অটোরিকশা এমনভাবে চলাচল করে যেনো এটা এলাকার কোনো কোনো সড়ক। পুলিশের চোখের সামনেই এই দৌরাত্ম্য, অথচ তারা না দেখার ভান করে।

বাসচালকরা জানান, অটোরিকশার হুটহাট ব্রেক, হুটহাট ঘুরিয়ে ফেলা আমাদেরের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকি। অটোরিকশা নিয়ে একটা স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। নতুন সরকারের উদ্যোগী হওয়া অন্তত জরুরি।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানিয়েছে, আমরা অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি মামলা হচ্ছে। তবে এটার স্থায়ী সমাধান করা প্রায় অসম্ভবের মতো। কারণ অটোর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি এড়াতে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। মহাসড়কে আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকছে এবং আমাদের এসপির কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ থানার ইনচার্জ শ্রী কৃষ্ণপদ জানান, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা নিয়মিত অটোরিকশা বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। প্রতিদিন অন্তত ৩০টি মামলা হচ্ছে এবং অটো ডাম্পিংয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়