বৃহস্পতিবার ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
Advertise with us

বন্দরের জাহাজ থেকে ১০ কোটি টাকার মাল লুট করলো কারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বন্দরের জাহাজ থেকে ১০ কোটি টাকার মাল লুট করলো কারা?

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা অবস্থায় তিনটি বিদেশি স্ক্র্যাপ জাহাজে লুটের ঘটনা ঘটেছে। ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাই-১৮ দিনে এসব ঘটনা ঘটে। জাহাজগুলো ভাঙার জন্য আমদানি করা হয়েছিল। এসব জাহাজ থেকে অন্তত ১০ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা। একটি জাহাজের দুই কোটি টাকার মালপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ দিনে এসব ঘটনায় মামলা হয়নি। ফলে জাহাজ মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে বহির্নোঙরে জলদস্যুতা এবং জাহাজের নিরাপত্তা চেয়ে বুধবার নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এ চিঠি দিয়েছেন। তাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, ২৯ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর চার্লি অ্যাংকরেজে পৌঁছায় ‘এমভি হাই জু’। জাহাজটি সীতাকুণ্ডের ডায়নামিক শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য আমদানি করা হয়েছিল। রাত ১টায় ২০-২৫ জনের একটি দস্যু দল জাহাজে হানা দিয়ে স্পেয়ার পার্টসসহ প্রায় ১ কোটি টাকা দামের সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

পরদিন একই স্থানে ‘এমটি আইরোস’ নামের আরেকটি জাহাজ লুটের শিকার হয়। দস্যুরা ৫ কোটি টাকার মূল্যবান সরঞ্জাম নিয়ে যায়। পরে অবশ্য কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। জাহাজটি আমদানি করে সীতাকুণ্ডের যমুনা শিপ ব্রেকার্স।

সর্বশেষ ১৬ জুলাই ভোরে লুটের শিকার হয় সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘তাই শুয়েনে’ জাহাজ। দস্যুরা ডেক থেকে দামি মুরিং রোপ, ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে। এসব মালামালের দাম অন্তত চার কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, জলদস্যুরা জাহাজে ওঠার সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ক্যাপ্টেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে আইনি জটিলতার ভয়ে মামলা করা হয়নি।

নৌমন্ত্রীর কাছে দেওয়া চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতির চিঠিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করা হয়। তাতে বলা হয়, রিক্যাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে কোনও দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মতো দেশের জলসীমায় চুরি ও দস্যুতা ঘটলেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতায় এই সাফল্য এসেছে।

চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার জানায়, সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো রিক্যাপের পর্যবেক্ষণে প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম নষ্ট হতে পারে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে বলা হয়।

চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার ওসি মো. আবদুর রব বলেন, এসব লুটের ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে কোস্টগার্ড।

পতেঙ্গা থানার ওসি মো. পারভেজ বলেন, একটি জাহাজ থেকে চুরি হওয়া মালামাল ১ জুলাই নৌ থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাংলাবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম বলেন, স্ক্র্যাপবাহী জাহাজে চুরি রুখতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তথ্যবিনিময়, যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং কোস্ট গার্ডকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মর্যাদাসহ প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়