
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অস্ট্রেলিয়ার বিমান পরিবহন সংস্থা কোয়ান্টাসের নতুন অতি-দীর্ঘ পাল্লার উড়োজাহাজ প্রথমবারের মতো টানা ১৯ ঘণ্টার একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট শেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অবতরণ করেছে। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার ফ্লাইটটি ফ্রান্স থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অবতরণ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোয়ান্টাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা এয়ারবাস এ৩৫০–১০০০–ইউএলআর গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের তুলুজে অবস্থিত এয়ারবাসের উৎপাদন কেন্দ্র থেকে কোনো যাত্রাবিরতি ছাড়াই মেলবোর্নের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই উড়োজাহাজগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে সেগুলো কোয়ান্টাসের পরিকল্পিত সিডনি থেকে লন্ডন সরাসরি রুটে টানা ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারে। এই পরিষেবা ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
পরীক্ষামূলক এই ফ্লাইটটি পরিবহন ও বিমান চলাচলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। শুক্রবার সকালে ফ্লাইটরাডার ২৪ ডট কমে প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথ অনুসরণ করেছেন ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ, যা শুক্রবার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা ফ্লাইটে পরিণত হয়। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩৩ মিনিটে তুলুজ থেকে উড্ডয়ন করে বিমানটি। এরপর টানা ১৯ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় আকাশে থাকার পর স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে এটি মেলবোর্নে অবতরণ করে।
এক বিবৃতিতে কোয়ান্টাস জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক এই ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন এয়ারবাসের চারজন ফ্লাইট টেস্ট পাইলট এবং পাঁচজন ফ্লাইট টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার। তাঁরা এবং উড়োজাহাজটি কিছুদিন মেলবোর্নে অবস্থান করবে। এরপর সোমবার তাঁরা টুলুজের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং ফেরার পথে তাদের সঙ্গে কোয়ান্টাসের দুইজন পাইলটও থাকবেন।
কোয়ান্টাসের চিফ টেকনিক্যাল পাইলট অ্যালেক্স পাসেরিনি জানান, ফেরার যাত্রায় ২৩ ঘণ্টা সময় লাগবে। এই সময়ে ক্রুরা জ্বালানি স্থানান্তর (ফুয়েল ট্রান্সফার) ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এয়ার কন্ডিশনিং) ব্যবস্থা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সিস্টেম পরীক্ষা করবেন।
পাসেরিনি বলেন, বিমানটিতে থাকা ডেটা-নির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রুরা নিয়মিত বিরতি নিয়ে বিশ্রাম নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তাই এই বিশ্রামের দরকার আছে।’
কোয়ান্টাস আরও জানিয়েছে, বর্তমানে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে থাকা বিমানটিই এই মডেলের প্রথম উড়োজাহাজ, যা আকাশে উড়েছে। এ৩৫০–১০০০–ইউএলআর প্রথমবার উড্ডয়ন করে ২ জুন, যখন এটি ফ্রান্স ও ফরাসি আটলান্টিক উপকূলের ওপর দিয়ে ৩ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট উড়ে। এরপর থেকে বিমানটি ব্যাপক পরিসরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে। পরীক্ষামূলক এই উড়োজাহাজে এখনও কোয়ান্টাসের পরিচিত সাদা-লাল রঙের আনুষ্ঠানিক লিভারি ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে বিমানটির গায়ে রয়েছে হালকা বাদামি রঙের বাহ্যিক আবরণ, যাতে কোম্পানির ব্র্যান্ডিং রয়েছে এবং ডানার প্রান্তে কোয়ান্টাসের লোগো সংযুক্ত করা হয়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, কোয়ান্টাসের আনুষ্ঠানিক লিভারিতে রঙ করা প্রথম এ৩৫০–১০০০–ইউএলআর, যার নাম ‘ভেগা’, এখনও সংযোজন লাইনে রয়েছে। এটি ২০২৭ সালের এপ্রিলে কোয়ান্টাসের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এয়ারবাসের তথ্য অনুযায়ী, এ৩৫০–১০০০–ইউএলআরে সংযোজিত অতিরিক্ত ২০ হাজার লিটারের জ্বালানি ট্যাংক বিমানটিকে প্রায় ১০ হাজার নটিক্যাল মাইল বা ১৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত অতি-দীর্ঘ দূরত্বের রুটে উড্ডয়নের সক্ষমতা দেবে। কোয়ান্টাস গত জুনে জানিয়েছিল, তারা ১২টি এ৩৫০–১০০০ ইউএলআর কিনছে, যার প্রতিটিতে ২৩৮টি আসন থাকবে। অথচ অন্যান্য এ৩৫০–১০০০ মডেলে সাধারণত ৩০০ টিরও বেশি আসন থাকে।
কোয়ান্টাসের ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর আওতায় সিডনি থেকে লন্ডনে বিরতিহীন ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা অতীতের কয়েক বছরে একাধিকবার পিছিয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, পরিষেবাটি ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে চালু হবে এবং বিশেষভাবে কনফিগার করা প্রথম এ৩৫০–১০০০–ইউএলআর ২০২৬ সালের শেষ দিকে এয়ারবাস সরবরাহ করবে। তবে গত জুনে এয়ারবাস জানায়, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০২৭ সালের এপ্রিলে সরবরাহ করা হবে। ফলে পরিষেবা চালুর সময়সূচি আবারও পিছিয়ে যায়।
এর আগে কোয়ান্টাস জানিয়েছিল, সিডনির পাশাপাশি মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন থেকেও লন্ডন ও নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে গত জুনে কোম্পানির সর্বশেষ ঘোষণায় মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। যদিও কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গ্রাহকদের চাহিদার ভিত্তিতেই কোয়ান্টাস ভবিষ্যতে তাদের রুট সমন্বয় করবে।
