সোমবার ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
‘লেডি মীর জাফর’ উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট ডিএজির: হাইকোর্টে নালিশ রুমিন ফারহানার আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত, আমাদের গলায় শক্তি বেশি: জি কে গউস শ্যামলীতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট করা হবে: ববি হাজ্জাজ ১২ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন যুবদল নেতার ফোন না ধরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনের ম্যানেজার ও বুকিং ক্লার্ককে মারধর অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার, প্রেমিকাকে দ্বিখণ্ডিত করেন প্রেমিক ও তার মা কুষ্টিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবে কমছে না দুর্ভোগ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আশাবাদী ব্যবসায়ীরা ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি রাষ্ট্রপতির হিসেবে প্রথমবার একদিনের সফরে সিলেট যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
Advertise with us

অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার, প্রেমিকাকে দ্বিখণ্ডিত করেন প্রেমিক ও তার মা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার, প্রেমিকাকে দ্বিখণ্ডিত করেন প্রেমিক ও তার মা

গাজীপুরের জয়দেবপুরে খালের পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও পূর্বের ক্ষোভের জেরে ডলি আক্তার (৩০) নামে ওই নারীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পরে পরিচয় গোপন ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তার লাশ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অন্য অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহতের প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

পুলিশ জানায়, ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের একটি খালে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুটকেস ও বস্তার ভেতর থেকে এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে শুরু হয় অনুসন্ধান।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাও উদ্ঘাটন করে পিবিআই।

৫ বছরের প্রেম, বিয়ে নিয়ে বিরোধ

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা গেছে, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। ডলি নিয়মিত মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।

পুলিশের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে থাকেন।

পিবিআই জানায়, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে মিশনের মধ্যে ডলির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন।

আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিশন লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

এরপর লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির লাশ দেখতে পান। পরে লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়।

মিশন একটি সুটকেস সংগ্রহ করেন। কিন্তু পুরো লাশ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড ও বঁটি-দা দিয়ে কোমর থেকে লাশ দ্বিখণ্ডিত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। লাশের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।

এরপর মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দিতে সহযোগিতা করেন।

পিবিআই জানায়, পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে সুটকেস ও বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুরে যান। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ভবানীপুর এলাকায় যান তারা।

পরে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে মিশন ও মিল্টন সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে জানতে চান তিনি। একপর্যায়ে মিশন তাকে জানান, সেখানে তার প্রেমিকা ডলি আক্তারের লাশ রয়েছে। এরপর তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।

নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তে নিয়ে পিবিআই দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক একটি ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো মতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় শুরুতে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়