
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নানা কৌশলে পাচারকারী চক্র বিদেশে মানুষ পাঠাচ্ছে। চক্রগুলো বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি ও দ্রুত সচ্ছল হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। অবৈধ উপায়ে বিদেশে পাঠিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তাদের জিম্মি করে আরও টাকা আদায়ের অপচেষ্টাও চালায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালেও এই পাচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি স্ত্রী পরিচয়ে মালয়েশিয়ায় নারী পাচারের একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের তথ্য সামনে এসেছে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় তিন নারীসহ ছয়জনকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন মনির হোসেন, মো. লিটন, রিপন মিয়া, মোসলিমা খাতুন, নাসরিন ও লামিয়া আক্তার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানব পাচার ইউনিট তদারক করছে।
সূত্র জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যান ছয় যাত্রী। ইমিগ্রেশন পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রত্যেকে স্বামী-স্ত্রী বলে দাবি করেন। পরে জানা যায়, তারা দম্পতি নন। দালাল চক্রের মাধ্যমে তিন নারীকে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হচ্ছিল। পরে বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট শাখায় তাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, পাসপোর্টের স্পাউস (স্বামী বা স্ত্রী) নামের অংশে টেম্পারিং করে নতুন নাম বসানো হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আসামি মনির হোসেনের ‘জেড ই ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামে পল্টনে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা আছে। এই এজেন্সির মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসায় ওই তিন নারী পাচারের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে প্রত্যেক নারীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি করা হয়। আসামি মনির হোসেন ইমিগ্রেশনে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মতো আচরণ করতে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, মনিরের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নারীদের কাছ থেকে গত ২৮ জানুয়ারি এক লাখ টাকা করে নেন। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেশে থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ওই তিন নারীসহ পাঁচজন গত ১ ফেব্রুয়ারি তাদের পাসপোর্ট ওই ট্রাভেল এজেন্সিতে জমা দিয়েছিলেন। মালয়েশিয়ার ই-ভিসা, বিমান টিকিটসহ সব কাগজপত্র করে দেয় এজেন্সিটি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মীর ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, ট্যুরিস্ট ভিসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়ায় গেলে দেশটির ইমিগ্রেশন পার হওয়া তুলনামূলক সহজ হয়। তাই তাদের পাচারের উদ্দেশ্যে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
