
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা উন্নয়ন সহায়তা দেবে। ২০৩১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ব্যবহার হয়। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ট্রানে ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে এবং ট্রেনের গতিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঢাকা এবং এর দুই পাশের শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যানজট ও গাড়ির চাপ কমাতে এই রুটটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট লিংক হতে পারে। পুরোনো ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের কারণে বর্তমানে ট্রেনগুলো কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারে না এবং যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রিপও দেওয়া সম্ভব হয় না।
এই বাধাগুলো দূর করতেই রেলওয়ে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। এটি চালু হলে প্রতিদিন গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ গণপরিবহন সুবিধা পাবেন।
এই উদ্যোগের আওতায় ট্রেনের পরিচালনা ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজেল থেকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হবে। রেললাইনের ওপর দিয়ে ‘ওভারহেড ওয়্যার’ বা বিদ্যুতের তার স্থাপন করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বিশেষায়িত ‘ট্রাকশন সাবস্টেশন’ নির্মাণ করা হবে।
নিরাপদ ও মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ‘ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট’ (ইএমইউ) ট্রেন, বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন এবং কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন অর্থনীতি ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। ডিজেল ইঞ্জিনের চেয়ে বৈদ্যুতিক ট্রেন অনেক দ্রুতগতিতে চলতে এবং থামতে পারে। ফলে স্টেশনে থামার পর দ্রুত সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে যাতায়াতের সময় অর্ধেকের বেশি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩ হাজার ৯৩ কিলোমিটার নেটওয়ার্কে ডিজেলচালিত ট্রেন পরিচালনা করছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, বৈদ্যুতিক ট্রেনে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। এই ব্যবস্থা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব।
কর্মকর্তারা জানান, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে পরিচালনা ব্যয় ৩৫ শতাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমবে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের রেলওয়ে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে তাদের ৬৫ হাজার ৩০০ কিলোমিটার ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৫৮ হাজার ৮১২ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেনের ভাবনা
গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে বৈদ্যুতিক ট্রাকশন চালুর জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
সাংসদ মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও প্রকল্পের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেন চলবে। এতে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।
