
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবস্থা খারাপ হলেও তাদের দেশে ফেরানোর মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। এমনিতেই সৌদির শ্রমবাজারের অবস্থা খারাপ ছিল। এখন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দিন দিন আরো খারাপের দিকেই যাচ্ছে। যদিও যুদ্ধ লাগার দুই সপ্তাহ আগেই সৌদি সরকার বাংলাদেশী কর্মীদের নামে নতুন ভিসা ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু সৌদি নয়, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারও অনেকটা বন্ধের পথে।বাংলাদেশ সংবাদ বিশ্লেষণ
যুদ্ধের আগে এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবস্থা খারাপ হলেও তাদের দেশে ফেরানোর মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। এমনিতেই সৌদির শ্রমবাজারের অবস্থা খারাপ ছিল। এখন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দিন দিন আরো খারাপের দিকেই যাচ্ছে। যদিও যুদ্ধ লাগার দুই সপ্তাহ আগেই সৌদি সরকার বাংলাদেশী কর্মীদের নামে নতুন ভিসা ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু সৌদি নয়, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারও অনেকটা বন্ধের পথে।বাংলাদেশ সংবাদ বিশ্লেষণ
গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের আলী রাজী কমপ্লেক্সের একজন রিক্রুটিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী নিজের পরিচয় না বলার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক শ্রমবাজার নিয়ে এভাবেই তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমাদের সরকার কি ভাবছে, শ্রমবাজার নিয়ে নতুন পরিকল্পনা কি করছে- সেটা এখনো বুঝতে পারছি না। তবে এই মুহূর্তে সৌদিসহ অন্যান্য দেশের যেসব ভিসা চলে এসেছে সেগুলো কিভাবে দেয়া যায় সে ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকদিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন কর্মী ফেরত আসছে। এর মধ্যে যেসব কর্মী জেল খেটে অথবা লাখ লাখ টাকা খরচ করে গিয়ে বিপদে পড়ে স্বেচ্ছায় দেশে চলে আসছেন তাদের বেশির ভাগেরই বক্তব্য হচ্ছে, সৌদি আরবে বাংলাদেশী কর্মীদের অবস্থা খুবই খারাপ। এরমধ্য যারা এখনো সেখানে কষ্ট করে আছেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই কাজ নেই। আবার কাজ থাকলেও তারা কোম্পানি থেকে ঠিকমতো বেতন পাচ্ছে না। অনেক কোম্পানি কাজ করিয়েও মাসের পর মাস বেতন দিচ্ছে না। আর এসব বিষয়ে যাদের সবসময় খোঁজ রাখার কথা সেই বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দার কনসাল জেনারেল অফিসের কর্মকর্তারা খুব একটা খোঁজ রাখছেন না বলে অভিযোগ করছেন তারা।বাংলাদেশ সংবাদ বিশ্লেষণ।
সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসা প্রবাসী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিদেশ এমন একটা জিনিস, দেশে থাইক্যা মনে হয় বিদেশে অনেক টাকা উড়ে। কিন্তু যাওয়ার পর বুঝা যায় বিদেশ কি জিনিস। দেশে থাকতে বোঝা যায় না।
এই মুহূর্তের সৌদি আরবের ভালোমন্দের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই প্রবাসী বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আছে, মোটামুটি ভালো। তবে বর্তমানে কোম্পানিগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। বেশির ভাগই ফাইনাল এক্সিট মাইরা দেশে পাঠাইয়্যা দিতাছে। এখন কাজই নাই। না বুইয্যা যাইতাছে। যদি বুজত তাহলে তারা যাইত না।
আরেক প্রবাসী পাঁচ বছর পর দেশে ফিরে আসেন। তিনি সৌদির অবস্থা ভালো বললেও সাত মাসের বেতন রেখেই দেশে চলে এসেছেন বলে জানান। প্রতিমাসে এক হাজার ৪০০ রিয়াল করে প্রায় তিন লাখ টাকা পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যারা সৌদিতে যাচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে আমি ভালো খারাপ কোনটাই বলব না। কারণ তারা তো জেনে বুঝেই যাচ্ছেন। এ সময় পাশে থাকা অপর প্রবাসী বলেন, সৌদির অবস্থা খারাপ। কাজ নাই। বেতন নাই। এ সময় ঢাকায় থাকা সৌদি প্রবাসীর একজন ভাই আক্ষেপ করে বলেন, আমার ভাইকে তিন মাস হলো পাঠাইছি। তিন মাসেও কোনো কাজ পায়নি। দেশ থেকে ট্যাকা নিয়া নিয়া খাইতেছে। পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে গেছে। দুই মাস আকামা ছিল। এখন সেটারও মেয়াদ নাই। আমরা এখন মানুষকে কিভাবে বলব ভাই, আপনি সৌদি যান। বিদেশ না গিয়া যদি ২০ হাজার টাকা বেতনে দেশেই কাজ করা যায় তবু বিদেশ থেকে ভালো। কিন্তু সৌদির অবস্থা করুন। তিনি বলেন, আমার ছোট ভাইরে তো নিয়ে আসতে হইবো। বাধ্য। দুই মাস দেখি। বাড়ি থেকা টাকা পাঠাইতাছি। চলতাছে। এর পরও যদি না পারি তাইলে টাকা পাঠাইয়্যা ভাইটারে দেশে নিয়া আমু। এ সময় পাশে থেকে দেশে ফেরত আসা প্রবাসী বলেন, দেড় লাখ টাকা দেশ থেকে নিয়ে এক্সিট লাগাইয়্যা তারপর দেশে আসছি।
মধ্যবয়স্ক জেল খেটে দেশে ফেরা একজন প্রবাসী বাংলাদেশ দূতাবাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রানিং মাসের ৭ তারিখেই কুমিল্লা চান্দিনা এলাকার একজন প্রফেসরসহ দু’জন ওমরা পালন করতে গেছেন। তাদের দু’জনেরই ২৬ তারিখে দেশে ফেরার জন্য বিমানের ফিরতি টিকিটও রয়েছে। এরমধ্য পুলিশ তাদেরকে ১৪ কি ১৫ তারিখে ধরে নিয়ে গেছে। তারা এখনো সৌদির জেলখানায় আছে। তাদেরকে ছাড়াতে দূতাবাসের কেউ যায়নি। ভারত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতরা হার্ড হলেও আমাদের দেশের প্রশাসন খুবই দুর্বল। উনাদের শরীরে কোনো শক্তি নাই! সরকার প্রধানকে বলব অ্যাম্বাসিকে শক্তিশালী করতে। প্রবাসীরা যাতে অ্যাম্বাসির মাধ্যমে সহযোগিতা পায়।বাংলাদেশ সংবাদ বিশ্লেষণ
গতকাল বিকেলে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর রেজা ই রাব্বির সাথে হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এখানে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলা যায় না। ভয়েজ অথবা ট্যাক্স করার অনুরোধ করেন। পরে তাকে ভয়েজ ম্যাসেজ দিয়ে সৌদির বাংলাদেশী কর্মীদের সার্বিক অবস্থা ও যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সে ক্ষেত্রে কর্মীদের দেশে ফেরত আসার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে কি না। এমন প্রশ্ন করার পর তিনি আর উত্তরই দেননি। গতকাল জনশক্তি বিশ্লেষক আনিছুর রহমান বলেন, আমি যতটুকু জানি যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই সৌদি সরকার বাংলাদেশী কর্মীদের নামে ভিসা ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা এখন এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবে যেসব কোম্পানি কর্মীর নামে ভিসা নেয়, সেই কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র ঠিক আছে কি না সেগুলো যাচাই করছে। যেগুলোর ঠিক নাই সেগুলোর কর্মীর নামে ইস্যু হওয়া ভিসা তারা সার্ভার থেকে মুছে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর আগে যেসব ভিসা ইস্যু হয়েছিল এবং বাংলাদেশে আসার পর সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আকামাও লেগেছিল, বিএমইটি থেকে ম্যানপাওয়ার হয়েছিল এমন শত শত ভিসাও তারা তাদের ওয়েব সাইট থেকে মুছে দিচ্ছে । এতে ব্যবসায়ীরা পড়েছে বিপদে। তবে সৌদি থেকে শ্রমিকদের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্য ফেরত আসার সম্ভবনা নাই বলে জানান তিনি।
