
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সফর সংক্ষিপ্ত করার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশ নানা রকম সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দেশে থাকা তার জন্য নিশ্চয়ই আরও বেশি গুরুত্বের এই মুহূর্তে।
আজ (মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘সফরটা একটু দীর্ঘ ছিলো, এটা প্রাথমিকভাবেই এই তথ্য ছিলো, তিনি ইউএনজিএ-তে যাচ্ছেন। স্যান ফ্র্যান্সিসকোতে তার ইউএনজিএর কোনো প্রোগ্রাম ছিলো না, দলীয় বা অন্য কোনো প্রোগ্রাম ছিলো। পরবর্তীতে তিনি এটা সংক্ষিপ্ত করেছেন, কারণ এত দীর্ঘ সফরের চেয়ে কম সময়ের সফর ব্যয়সাশ্রয়ী। আপনারা খেয়াল করবেন, তিনি খুবই ছোটো একটা দল নিয়ে গেছেন।’
জ্বালানি প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের জ্বালানির সময়টা সামনে খুব একটা ভালো নয়। আমি মানছি যে, গত ২-৩ দিনে ২ থেকে ৩ শতাংশ কমেছে, তবে ক্রুড অয়েলের দাম এখনো ১০০ ডলারের বেশি। কিন্তু এটা আসলে সাস্টেইন করার সম্ভাবনা নেই। কারণ, আমি আগেও বলেছি, এখন প্রায় ৯০ টাকা ভর্তুকি দিতে হয় প্রতি লিটারে ডিজেলের ক্ষেত্রে। ২০ টাকা বাড়ানোর পর এখনো একটা বড় ভর্তুকি আছে। আমার ধরে নিচ্ছি, কাগজে-কলমে যদি কিছুটা কমেও, ঘুরেফিরে আসলে পরিস্থিতি একই থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘সামনে তেলের ভবিষ্যৎ, আমরা যদি আপাতত দেখি যে, জ্বালানি তেলের দাম ২-৩ বা ৪ ডলার কমেছে, এই অবস্থায় আসলে থাকবে এটা মনে করা ঠিক হবে না। এটা আরও বেশি খারাপ পরিস্থিতিতে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। সেই বিবেচনায় আমরা মনে করি বাড়ানো ঠিক আছে।’
জ্বালানির দাম বাড়িয়ে এ সরকার অজনপ্রিয় হচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এইটুকু কাইন্ডনেস জনগণের কাছে চাইবো। জনগণের কষ্ট হচ্ছে-হবে। আমরা আগেও দেখেছি, জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা হচ্ছে। এটা কোথায় হচ্ছে না। অ্যামেরিকার কথা যেটা বলছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার চাচ্ছেন, জ্বালানির দামটা যাতে ঠিক রাখা যায়, কেননা মিডটার্ম ইলেকশনে তার হেরে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। আমাদের মিড টার্ম ইলেকশন নেই, তবে আমাদের তো একটা লোকাল গভার্নমেন্ট ইলেকশন আছে। সরকার জেনে-বুঝে জনগণকে অসন্তুষ্ট করার তো কোনো কারণ নেই। কারণ এই সরকার হাসিনা সরকারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্যাকেজ ধরে টাকা নিয়ে কাউকে জিতিয়ে দেবে না, একটা নির্বাচন হবে। তাই ঝুঁকি আছে, ঝুঁকি নেই তা বলছি না।’
তিনি বলেন, ‘গ্যাসের সংকট আছে। প্রায় দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, ইন্টেরিমের সময়ের সাথে যদি তুলনা করি। যে গ্যাস বিদ্যুৎ খাতে এই অর্থবছরের বাজেটে ৪৮ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দেয়ার কথা ছিলো, আড়াই মাসেই অর্ধেক দেয়া হয়ে গেছে। এখন এই গতিতে গ্যাস-বিদ্যুতে ভর্তুকি দেয়া হলে, তাহলে বছর শেষে এটা সোয়া ১ লাখ কোটি থেকে দেড় লাখ কোটিতে দাঁড়াবে।’
