রবিবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
মাদ্রাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা দুঃখজনক: ধর্মমন্ত্রী নরসিংদী মোটরসাইকেল ট্রাকের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু এখন আন্দোলন নয়, সবাইকে উন্নয়নকাজে সহযোগিতা করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নতুন বিনিয়োগ তৈরি করবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশকে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সর্তকতার পরামর্শ বিশ্লেষকদের আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা সাজেকে হামলার অভিযোগে দুই জেলায় অবরোধ তিন দশকে ভয়ংকর এডিস; ডেঙ্গু এখন আঞ্চলিক মহামারি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬
Advertise with us

ইরান না চাইলেও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে গভীর কারণ আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১০২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইরান না চাইলেও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে গভীর কারণ আছে

‘ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ করা হয়নি। অথচ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ইচ্ছাতেই একতরফাভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র শান্তির চেষ্টা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ আছে।’—বলছেন ইতিহাসবিদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সায়িদ মার্কোস তেনোরিও।

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এ লেখা কলামে তিনি এসব কথা বলেন।

সায়িদ মার্কোস তেনোরিও বলছেন, এটি (যুদ্ধবিরতি) মূলত ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলের ব্যর্থতা। ইরানকে ভয় দেখিয়ে বশ করা যাচ্ছে না। ফলে ইরানের ওপর শক্তি খাটানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সেই অসহায়ত্বই ফুটিয়ে তুলেছে। এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে হোয়াইট হাউস আসলে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তারা বুঝে গেছে, এখন আর গায়ের জোরে সব শর্ত চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি একধরনের ‘কৌশলগত পিছুটান’।

তার মতে, যুদ্ধের বিভিন্ন দিক যাচাই করে যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে, এই যুদ্ধে তাদের জেতার সম্ভাবনা খুব কম। ইরানের পাল্টা হামলা চালানোর দারুণ সক্ষমতা আছে। তারা নিজের দেশের সম্পদ রক্ষা করতে জানে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে থাকা আঞ্চলিক মিত্রদের শক্তিও অনেক বেশি। এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এই বিশাল চাপ সামলানো এখন ওয়াশিংটনের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি লেখেন, মার্কিন ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময় নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সাময়িক বিরতি দেয়। এই যুদ্ধবিরতির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা কোনো গোপন হামলা চালাতে পারে। ইরান এই কৌশল সম্পর্কে বেশ সচেতন। তারা এই সম্ভাবনাকে মোটেই হালকাভাবে দেখছে না। তারা যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত আছে। সহজ কথায়, এই বিরতি কোনো শান্তির সংকেত নয়। এটি সম্ভবত নতুন করে শক্তি গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ মাত্র।

‘এই পুরো পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি লড়াই থেকে দূরে থাকতে চাইছে। এর বদলে তারা ইসরায়েলকে সামনে রেখে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। লেবানন সংকটের মতো নানা অজুহাত তুলে তারা ইসরায়েলকে ব্যবহার করতে পারে।’—বলছেন এই বিশেষজ্ঞ।

সায়িদ মার্কোস তেনোরিও তার কলামে বলেন, নিজেদের ক্ষতি এড়াতে অন্যকে দিয়ে যুদ্ধ করানো আমেরিকার পুরোনো অভ্যাস। কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই চাল মানবে না। তাদের মতে, হামলা ইসরায়েল করলেও তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তারা এই দুই পক্ষকে আলাদা করে দেখছে না। পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো হরমুজ প্রণালি। এই সমুদ্রপথ এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছে। সারা বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পারাপার হয়। তাই ইরান এটিকে বড় একটি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধের পাল্টা জবাব দিতে ইরান এই পথকেই বেছে নিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা এই পথ খুলে দেবে না। প্রয়োজন হলে তারা এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এর ফলে সারা বিশ্বের জ্বালানিব্যবস্থা বড় বিপদে পড়বে। তাই এই লড়াই আর কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই, এটি বিশ্ব অর্থনীতিকেও নাড়িয়ে দিচ্ছে।

‘যুক্তরাষ্ট্র চায় যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অচল করে দিতে। কিন্তু এই কৌশলের এখন একটা সীমা আছে। কারণ, এখন পরিস্থিতি আগের মতো নেই।’

‘বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে ইরানের সরাসরি প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা আছে। ফলে ইরানকে চাপে রাখতে গিয়ে অশান্তি জিইয়ে রাখলে কেবল তাদেরই ক্ষতি হবে না। এতে পশ্চিমা দেশগুলোসহ পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে। অর্থাৎ ইরানের ক্ষতি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নিজেরাই বিপদে পড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে শক্তির চিরাচরিত ধারা বদলে যাচ্ছে। ইরান এখানে কেবল বসে থাকা কোনো দুর্বল পক্ষ নয়, তারাই এখন যুদ্ধের নতুন নিয়ম ঠিক করছে। তারা এই যুদ্ধবিরতিকে কারও দয়া হিসেবে দেখছে না। তাই নিজেদের সামরিক শক্তিও তারা কমিয়ে দেয়নি। এতে শক্তির এক নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। এখন চাইলেই কেবল ইরানের ওপর যুদ্ধের সব ক্ষতি বা দায় চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রকেও এর মাশুল গুনতে হবে।

সায়িদ মার্কোস তেনোরিও বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ক্ষমতার কোনো লক্ষণ নয়। বরং এটি পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ হারানোর এক বড় সংকেত। এই অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধবিরতি প্রমাণ করে যে আমেরিকার শক্তিরও একটি সীমা আছে। এখন বড় প্রশ্ন এটি নয় যে যুদ্ধ চলবে কি না। বরং আসল প্রশ্ন হলো—এত দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি শেষ পর্যন্ত কার হাতে টিকে আছে?

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়