রবিবার ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

চৈত্র মাসে পৌষের কুয়াশা,ফসল নিয়ে চিন্তিত চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চৈত্র মাসে পৌষের কুয়াশা,ফসল নিয়ে চিন্তিত চাষিরা

ঠাকুরগাঁওয়ের আকাশে চৈত্র মাসে পৌষের মতো কুয়াশা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হালকা কুয়াশা দেখা গেলেও শুক্রবার অনেক বেশি কুয়াশা দেখা যায়। এমন আবহাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের রোগ বৃদ্ধিসহ ফসলের ফুলফল নিয়ে শংকিত স্থানীয়রা।

শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা ঘণকুয়াশায় ঢেকে গেছে রাস্তা ঘাট, ফসলের মাঠ। কৃষিজমির ঘাসের ডগায় দেখা যায় বিন্দু বিন্দু শিশিরকণা, পাখিদের কোলাহল।

রাতে বৃষ্টির মতো শিশির ঝড়েছে। সকালে ঘণ কুয়াশা থাকলেও দুপুরে শুরু হচ্ছে ভ্যাপসা গরম। হঠাৎ এমন আবহাওয়ায় চিন্তিত এলাকার স্থানীয় চাষিরা। বাংলা বর্ষপঞ্জির ষড়ঋতুর গণনায় এখন গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথা। তবে এবার গত দুই দিন আগেও আবহাওয়া ঠান্ডা থাকলেও এখন শুরু হয়েছে কুয়াশার সাথে ভ্যাপসা গরম।

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এখন বসন্তের শেষ পর্যায়। এ সময় সাধারণত কাঠফাটা রোদের আবহ থাকে। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ে বসন্তের আকাশ যেন আকস্মিক ঘন কুয়াশার ঢেকে গেছে। প্রকৃতির এমন পরিবর্তিত রূপকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলছেন পরিবেশবিদরা। তবে কৃষি অফিস বলছে, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়ে এমন কুয়াশা পড়ছে।

সকালে ঠান্ডা আর দুপুরে ভ্যাপসা গরমের কারণে ফুল ও ফল জাতীয় ফসল নিয়ে বেশ চিন্তিত জেলা চাষিরা। কারণ একই সময়ে ঠান্ডা আর গরমের কারণে গাছের ফুল ফল ঝরে পরে যায়। এ কারণে ফলনও কমে যায়।

সদর উপজেলার রহিমানপুরের গোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মাঈন উদ্দীন বলেন, ‘চৌত্র মাসে পৌষ মাসের মত কুয়াশা পড়েছে। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন ভালো লক্ষণ নয়। এমন আবহাওয়াতে শিশু ও বৃদ্ধদের রোগ বৃদ্ধি পাবে। মাঠের ফসল নিয়েও আমরা বেশ চিন্তিত।

একই এলাকার আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ছোট বেলায় বাবা, ‘দাদাদের কাছে শুনেছি চৌত্রে কুহা বৈশাখে বান বা বর্ষা। যার প্রমান ৬৫ বছর বয়সে এসে দেখতে পেলাম।’

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (শস্য) আলমগীর কবীর জানান, এই ধরনের কুয়াশাকে সাধারণত ‘স্টিম ফগ’ বা ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলা হয়। বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে শীতলতার সংস্পর্শে এলে জলীয় বাষ্প জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। এরপর তা ঘন কুয়াশায় রূপ নেয়। দ্রুত সময়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়বে না। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদানে কাজ করছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়