
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজধানী ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল পুরোপুরি প্রস্তুত হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। জনবল নিয়োগের অভাবে ৪ মাস ধরে প্রায় তালাবদ্ধ হাসপাতালটির ৫০০ শয্যার বেডের দ্বিতীয় ইউনিট। সেবা চালু করতে প্রয়োজন প্রায় ১৪০০ পদ পূরণ।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে এসেছেন পেশায় নিরাপত্তাকর্মী লাল মিয়া। তিনি হার্টের রোগী। কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাকে। হাসপাতাল থেকে তার স্বজনদের বলা হয়েছে, বেড খালি নেই।
তার মতো আরও অনেক ভুক্তভোগী রয়েছেন। যারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। একজন বলেন, অন্য একটি মেডিকেল কলেজে ৪-৫ দিন ভর্তি ছিলাম, পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে এই হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানানো হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যেতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি অনেক রোগী স্ট্রেচারে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের স্বজনরা জানান, মানসম্মত সেবার কারণে এই হাসপাতালে ভিড় বেশি। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি বেড খালি হলেও চাহিদা দ্বিগুণ। সার্জারির জন্য লম্বা অপেক্ষা। এমআরআইয়ের সিরিয়াল পেতে অপেক্ষা করতে হয় দুই মাস পর্যন্ত।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, ইমারজেন্সিতে ডাক্তার দেখিয়েছি। ভর্তি হতে বলেছেন, কিন্তু এখানে কোনো সিট নেই। অন্য আরেকজনের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, সিসিইউতে গিয়ে বলছে, ‘সিট নেই। সোহরাওয়ার্দী অথবা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাও।’
ভোগান্তি কমাতে পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে আরও ৫০০ শয্যার একটি ভবন। এখানে আছে অত্যাধুনিক দুটি মডুলার অপারেশন থিয়েটার। ৪০ বেডের আইসিইউ ইউনিট। দুটি ক্যাথ ল্যাব, এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন। সব মিলিয়ে অত্যাধুনিক নানা সুবিধা নিয়ে সেবার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এই ইউনিট।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক কাজী দ্বীন আহমেদ বলেন, হাসপাতালের আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সেবা সুবিধার দিক থেকে সরকারি খাতে এমন হাসপাতাল দেশে আর নেই বললেই চলে। তবে পিপিআর নীতিমালায় পরিবর্তনের কারণে জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি কেনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নতুন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। এ কারণেই কিছু কাজ বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ভবনে সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু জনবলই নিয়োগ হয়নি এখনও। পদ রাখা হয়েছে ৮৫২টি। এর মধ্যে চিকিৎসক ৪৪৬, নার্স ২৪৭। বাকিরা অন্যান্য পদের। এর বাইরে আউটসোর্সিং জনবল ৫৫৯ জন।
সম্প্রতি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, এখন মূল সমস্যা লোকবল সংকট। ধাপে ধাপে জনবল দেওয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক হলে হাসপাতালটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে। জনগণকে দ্রুত সেবা দিতে সরকার কাজ করছে। আশা করছি, ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই এটি সেবার আওতায় আসবে।
প্রসঙ্গত, নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের বর্ধিত অংশের নির্মাণ শুরু হয় ২০২০ সালে। ব্যয় ধরা হয় ৫০৬ কোটি টাকা। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী, বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রযুক্তিসহ সব মিলিয়ে হাসপাতালের ইউনিট টু তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে। গত ছয় বছর ধরে এই হাসপাতালটি স্বাস্থ্য বিভাগ নির্মাণ করলেও নেওয়া হয়নি কোনো জনবল প্রস্তুতি।
