রবিবার ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

ভোগান্তি কিছুটা কমেছে,পুরোপুরি কাটেনি তেলের সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভোগান্তি কিছুটা কমেছে,পুরোপুরি কাটেনি তেলের সংকট

জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পের সামনে অপেক্ষা আর ভোগান্তি যেন শেষই হচ্ছে না। তবে আগে যেখানে সারাদিন দাঁড়িয়ে তেল পাওয়া যেতো, এখন সেখানে এক থেকে তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগছে। কোনও কোনও পাম্পে এর চেয়েও কম সময়ে তেল পাওয়ার কথা জানিয়েছে গ্রাহকরা। পাম্প মালিকরা জানান, তারা যে পরিমাণ তেলে সরবরাহ পাচ্ছেন তাতে সারাদিন তেল দেওয়া সম্ভব না। সরকার যদি সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি করে তাহলে আর লাইন থাকবে না।

তেলের পাম্পগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্রাস্ট, মেঘনা ও সুমাত্রায় তেলের লাইন বেশ বড় আছে এখনও। এক থেকে দুই ঘণ্টা লাগছে তেল পেতে। তবে, অন্য পাম্পে লাইন ছোট, সময়ও কম লাগছে।

নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে তেল কিনেছেন সরফরাজ হোসেন। তিনি বলেন, “বিকাল ৫টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ২৫ মিনিটে তেল পেয়েছি।” তবে, কেউ কেউ ৩৫ মিনিট সময় লেগেছে বলেও জানান।

এদিকে, উত্তরার মাসুদ হাসান পাম্পে ফুয়েল পাস দিয়ে ফুল ট্যাংকি তেলে পেয়েছেন নাইম হোসেন। লাইনও ছোট বলে জানান তিনি। অপরদিকে, গাবতলির এসপি ফুয়েল পাম্পে দুপুর ২টার দিকে লাইন ছিল ৫০ থেকে ৬০ জনের। লাইনে থেকে ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছে গ্রাহকদের তেল পেতে। এই হিসাবে ঢাকায় তেলের পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি বেশ কিছুটা কমে এসেছে বলে বুঝা যায়।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, “সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি। মোটরসাইকেলের লাইন হয়তো কিছুটা কমেছে, কিন্তু চাপ কমেনি। অকটেনের সমস্যা কেটে গেছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আতঙ্ক এখনও কাটেনি। তাই সবাই বাড়তি তেলই কিনছে। আগে যেখানে ২০০ টাকার তেল কিনতো তারা এখন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকার তেল কিনছেন। তাই দ্রুত তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। অকটেনের সংকট কমে এলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। অনেক কারখানায় জেনারেটর চালায়, সে জন্য ডিজেল লাগে। এসব কারণে এখন ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর দরকার।”

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জ্বালানি তেলের সংকটকে ‘আর্টিফিশিয়াল সংকট’ বলে আখ্যা দেন। তিনি তেলের মজুতের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, “ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, জেট ফুয়েল, মেরিন ফুয়েল এবং ফার্নেস ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত আছে।”

মন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রীর মতে, অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু লোক লাইনে দাঁড়িয়ে এবং পরে ‘ইনফরমাল মার্কেটে’ তেল বিক্রি করছে। ফলে প্রকৃত ভোক্তারা বিপাকে পড়ছেন।

পেট্রোল পাম্পের লাইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম সংসদে জানিয়েছেন, অকটেন ও পেট্রোল মোট জ্বালানি চাহিদার তুলনায় ছোট অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে শুধু লম্বা লাইন দেখে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘ইনফরমাল মার্কেট’ তৈরি হয়েছে। সরকার দায় এড়াতে চায় না বরং সমাধানে এগুতে চায় তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক চলছে।”

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়