মঙ্গলবার ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

রাতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট বাড়তি সময় মেট্রোরেল চলাচলের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

রাতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট বাড়তি সময় মেট্রোরেল চলাচলের পরিকল্পনা

রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেলের চলাচলের সময় আরও বাড়ছে। বিশেষ করে রাতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট বাড়তি সময় মেট্রোরেল চলাচলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষামূলক চলাচল শেষ হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, চলতি মে মাসের শেষের দিকে কিংবা পবিত্র ঈদুল আজহার পর বাড়তি সময়ে চলবে মেট্রোরেল। দুই ট্রেনের মাঝখানের ব্যবধান আধা মিনিট কমবে। অর্থাৎ সাড়ে ৪ মিনিট পরপর মেট্রো চলবে।

মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা আছে, মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের সর্বশেষ মেট্রোরেল রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে। এখন সর্বশেষ মেট্রোরেল রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যায়। অন্যদিকে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের সর্বশেষ মেট্রোরেল রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন ছাড়ে রাত সাড়ে ৯টায়।

বর্তমানে প্রতিদিন সকালে সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে মেট্রোরেল চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় সকালে মেট্রোরেল আধা ঘণ্টা আগে চালু করা হয়। রাতে শেষ ট্রেনের সময় আধঘণ্টা বাড়ানো হয়। বর্তমানে সারা দিনে ২৯৭ বার (ট্রিপ) মেট্রোরেল চলাচল করে। এখন রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়লে ট্রিপের সংখ্যাও বাড়বে।

চলাচলের সময় বাড়ানো হলে দুই ট্রেনের মাঝখানের ব্যবধান কমবে। এখন ছুটির বাদে সপ্তাহের অন্যান্য দিনে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ারে) এক ট্রেনের সঙ্গে অন্য ট্রেনের সময়ের পার্থক্য পাঁচ মিনিট। নতুন সূচি কার্যকর হলে পিক আওয়ারে দুই ট্রেনের মধ্যে ব্যবধান কমে সাড়ে ৪ মিনিট করা হবে।

এখন কম ব্যস্ত সময়ে (অফপিক আওয়ারে) ৭ থেকে ২০ মিনিট পরপর ট্রেন চলে। মেট্রোরেল চলাচলের সময়কে পিক ও অফপিক আওয়ারের কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়। একেবারে সকালের দিকে দীর্ঘ সময় পরপর ট্রেন চলাচল করে। অফিসের সময়ে খানিক পরপর ট্রেন চলে। দুপুরে ও রাতে দুই ট্রেনের সময়ের ব্যবধান বাড়ানো হয়।

রাজধানীর পল্টনে একজন আইনজীবীর চেম্বারে কাজ করেন মাহমুদুর রহমান। প্রতিদিন সকালে আগারগাঁও থেকে মেট্রোরেলে কর্মক্ষেত্রে আসেন। কিন্তু রাতে ফিরতে দেরি হওয়ায় আর মেট্রোরেল পান না। এখন রাতে চলাচলের সময় বাড়ানো হলে উপকার হবে বলে জানান মাহমুদুর।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘কাজ সেরে রাত সাড়ে ১০টার আগে বের হতে পারি না। আগারগাঁও যেতে হয় বাসে। খুবই কষ্ট হয়। যাওয়ার সময় মেট্রোরেল পেলে সময় বাঁচবে, যাতায়াত হবে আরামদায়ক।’

মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রীদের মতে, একদম সকালের দিকের ট্রেনগুলোয় যাত্রী কিছুটা কম। কিন্তু রাতে শেষ ট্রেনেও যাত্রী ভরা থাকে। তাই রাতে চলাচলের সময় বাড়ানো হলে যাত্রীদের উপকার হবে। যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়বে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে চালানোর জন্য এখন ২৪ সেট ট্রেন আছে। প্রতি সেটে ছয়টি কোচ। বর্তমানে পিক আওয়ারে ১২ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক চলাচল করে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বাড়তি সময়ে চালালে এবং ট্রিপের সংখ্যা বাড়ালে ১৪ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক ব্যবহার করা হবে।

ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে। এ ছাড়া সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে বলে প্রকল্প নেওয়ার সময় প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল। কিন্তু লোকবলের অভাবে পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহন করার কথা। বর্তমানে মেট্রোরেলে দিনে গড়ে সোয়া চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশ আগামী বছর চালু হতে পারে। তখন প্রতিদিনের যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে উন্নীত হওয়ার কথা।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাতে দুই দিক থেকেই মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। কবে বাড়বে এবং কত সময় বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকায় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে চলাচল করত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে স্টেশনের সংখ্যা বাড়ে। মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিনে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়