
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাইয়ের আগে যা দেখেছিলাম, জুলাইয়ের পরেও তাই দেখছি। প্রত্যেকটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি থেকে শুরু করে- স্কুল কে পরিচালনা করবে, কে টেন্ডার পাবে, কে ইটের টাকার ভাগ খাবে- এসব নিয়েও নতুন একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। আমরা তাদের পেছনে রাজনীতি করতে পারি না। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে এনসিপির সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, যে পচা ব্যবস্থা ৫৩ বছরে তৈরি হয়েছে, তা দুই বছরে পরিবর্তন হবে না। তবে আমরা যদি সচেতন থাকি, তাহলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তন ঘর থেকেই শুরু হতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে গণমাধ্যমেও পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা দেখি, আমাদের গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য পাঠান, কিন্তু প্রধান কার্যালয়ে শুধু সরকারের প্রশংসাসূচক খবরই গুরুত্ব পায়; সমালোচনামূলক খবর যায় না। যে দল ক্ষমতায় থাকে, গণমাধ্যমে তাদের লোক বসানো হয়। এভাবে যদি গণমাধ্যম, প্রশাসন ও ব্যবসায়িক খাত দলীয়করণ হয়ে যায়, তাহলে এ দেশের প্রকৃত পরিবর্তন কোনোদিনই সম্ভব নয়। আমরা আর কোনো ওসমান হাদিকে হারাতে চাই না।
আসন্ন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনে এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুর রহমানের পক্ষে সমর্থন চেয়ে সারজিস আলম বলেন, আমরা কৃষক পরিবারের সন্তান। আমরা বিশ্বাস করি, রাজমিস্ত্রির ছেলে হাসনাত আব্দুল্লাহ যদি সংসদে যেতে পারে, আমাদের আতিক ভাইও উপজেলা চেয়ারম্যান হতে পারেন। আমরা বিশ্বাস করি, হাতিয়া দ্বীপের ২৫ বছরের তরুণ আবদুল হান্নান মাসউদ যদি এমপি হতে পারেন, তাহলে আমাদের আতিক ভাইও উপজেলা চেয়ারম্যান হতে পারবেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম–২ আসনের সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈফ মুস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জাতীয় নারীশক্তির সভাপতি মনিরা শারমিন এবং এনসিপির রাজশাহী মহানগর সভাপতি মোবাশ্বের আলী। সমাবেশের আগে উপজেলা সদরে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
