বৃহস্পতিবার ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৭.৩ শতাংশ নতুন তিন উপজেলা ও একটি থানা হচ্ছে পূর্বাচলে ৪টি থানা ও ৬টি তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত মৃত্যু থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাদণ্ড: মামলার ভাগ্য এখন আপিল বিভাগে মানবতাবিরোধী অপরাধ: জাসদ সভাপতি ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না : আপিল বিভাগ তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ ফয়’স লেকের প্রবেশমুখে গ্যাস পাইপলাইনে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী পণ্য খালাসে জটিলতায় গতি হারাচ্ছে ভোমরা বন্দরের বাণিজ্য
Advertise with us

ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

সরকারি প্রকল্পে শত শত দরিদ্র শ্রমিকের কাজ করার কথা। কিন্তু মাঠে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। শ্রমিকের বদলে চলছে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) মেশিন। আর তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ব্ল্যাংক চেকে আগাম সই নেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের দবরদস্তা-মলঙ্গী খাল পুনর্খনন প্রকল্পে। বিষয়টি তদন্তের দাবিতে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন অংশে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ৫৯৫ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। কিন্তু মাঠে তাদের উপস্থিতি মেলেনি। খালের পাশে দেখা যায় মাত্র কয়েকজন তদারককারীকে। জানা গেছে, শ্রমিকদের কাছ থেকে ব্যাংকের চেকে অগ্রিম সই নিয়েছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। কাজের তদারকিতে থাকা মুন্না মিয়া বলেন, ‘আমরা তিনজন এখানে কাজ করি। প্রতিদিন ৮০০ টাকা করে পাই। সরকারি তালিকাভুক্ত শ্রমিক এখানে কাজ করেন না।’

স্থানীয় কৃষিশ্রমিক মোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, এলাকার শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। পরে চেক বইয়ের খালি পাতায় সই করিয়ে সেই চেক নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। একই অভিযোগ করেন প্রকল্পের তালিকাভুক্ত শ্রমিক হাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে শুধু সেদিন আমাদের ডাকা হয়। দুই-তিন দিনের বেশি কাজ করিনি। আমার কাছ থেকে খালি চেকে সই নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র এক হাজার টাকা পেয়েছি।’ স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দেড় মাস ধরে অধিকাংশ খননকাজ ভেকু মেশিনেই করা হচ্ছে। খালের বিভিন্ন স্থানে এখনো পানি জমে থাকায় প্রকৃত তলদেশ কতটা খনন হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারা দেশে খাল খনন, পুনর্খনন ও সংস্কারকাজে ৪২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৬৩ জেলার ২৪৯ উপজেলায় ৩৭৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ফুলবাড়িয়ার দবরদস্তা-মলঙ্গী খাল পুনর্খনন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা। ১০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, বক্স কালভার্ট ও আরসিসি পাইপ নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল প্রকল্পটির উদ্বোধনের সময় জানানো হয়েছিল, খাল পুনর্খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং শত শত অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কর্মসংস্থানের বদলে মেশিননির্ভর কাজ চলায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫৯৫ জন শ্রমিকের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন কাজ করেন। তবে শ্রমিকদের ব্যাংক চেকে আগাম সই নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সাইদুল হক বলেন, নিয়ম মেনেই ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রমিকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। বিল দেওয়ার আগে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। অন্যদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ এখনো চলমান।

সরকারের উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়া। কিন্তু যদি শ্রমিকের জায়গা দখল করে নেয় মেশিন, আর শ্রমিকদের নামে ব্ল্যাংক চেকে সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে শুধু একটি প্রকল্প নয়, সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়