বুধবার ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব বিএফআইইউর দেশে প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চালু হয়েছে বাংলা কিউআর স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুলের বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক ভিত্তিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে হামলা চালিয়েছে ফ্যাসিবাদের দোসররা: ডিএনসিসি প্রশাসক চাহিদা অনুযায়ী দেশে আসছে ১৯ কার্গো এলএনজি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব: ত্রিবেদী আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস
Advertise with us

‌‌‍নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে, ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

‌‌‍নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে, ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে মিয়ানমার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের ফেরত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার-সমর্থিত প্রশাসন। আজ (শনিবার, ১৫ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নবম বছরে পড়ার প্রেক্ষাপটে এ বিবৃতি এলো। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সীমান্তরক্ষী চৌকিতে রোহিঙ্গা এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জেরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দমন-পীড়ন শুরু করে। এ অভিযানে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। এর আগেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একের পর এক সহিংসতার শিকার হয়ে লাখো রোহিঙ্গা কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন।

সে অভিযানের ব্যাপকতা, সাংগঠনিক রূপ ও নৃশংসতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে। বার্মা নামে পরিচিত মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি বৈধ জাতিগত সংখ্যালঘুর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বরং তারা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে বোঝাতে চায় যে এরা বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং মিয়ানমারে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন।

মিয়ানমার জানিয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দেয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করা যায়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনকে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাইকৃত সাবেক বাসিন্দাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে মিয়ানমার।

রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন—এ দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির মন্ত্রণালয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে গিয়েছিলেন এবং ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই রয়ে গেছেন।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ ২০১৮ সালে দুই বছরের একটি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়। তবে ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এই ঘটনার পর সেখানে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। এতে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের সব পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে।

২০২৩ সালে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতিগত আরাকান আর্মি গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। এতে জীবন বাঁচাতে আরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা দখল করে রাখাইনের একটি বড় অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শরণার্থীশিবিরের বাজে পরিস্থিতি, বিদেশি সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাঙাচোরা নৌকায় করে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে আরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ হাতে করে যাচ্ছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত জুলাইয়ের শেষে জানিয়েছিলেন, একটি প্রত্যাবাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছিলেন, এ প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুধু মালয়েশিয়ার আটক কেন্দ্রগুলোতে থাকা যাচাইকৃত মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে—এ ধরনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছে মিয়ানমার।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়