
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানতকারীদের আমানতের ওপর আর কোনো ‘হেয়ারকাট’ বা মুনাফা কর্তন থাকছে না। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটির ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে আমানতের মুনাফার ওপরও কোনো ধরনের কর্তন করা হবে না।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের বৈঠকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান, মো. কবির আহমাদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। এ কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলন করতে পারবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য ‘হেয়ারকাট’ বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিন পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়, আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের স্থিতির ওপর মুনাফা পাবেন না।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সংকটে পড়া ব্যাংক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। সেই রীতির কথা উল্লেখ করেই একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। তাঁরা শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে আমানতকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী মূল অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাওয়ায় ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক। একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি কাঠামোর আওতায় এনে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। এর অংশ হিসেবে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আমানতের ওপর হেয়ারকাট প্রত্যাহার এবং ব্যক্তি আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি ও দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাও এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগের তুলনায় বেশি সুবিধা পাবেন। আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানত থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী মূল অর্থ উত্তোলনের সুযোগের পাশাপাশি মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট না থাকায় দীর্ঘদিনের উদ্বেগও অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
