
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী ও তার ১০ মাস বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বামী মো. আবুল হোসেন টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের কারারক্ষী।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে টেপড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সনিয়া (২৬) ও তার ১০ মাস বয়সী মেয়ে জান্নাত। সনিয়া শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ পয়লা গ্রামের আরফান আলী শেখের মেয়ে। সনিয়া মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতের স্বামী আবুল হোসেন জানান, তিনি সাতদিনের ছুটিতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। স্ত্রীর মাস্টার্স ইনকোর্স পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শনিবার সকালে পরিবার নিয়ে মোটরসাইকেলে কর্মস্থল টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে উল্টো পথে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।
তিনি আরও জানান, বাসটি উল্টোপথে আসায় ভয় পেয়ে মোটরসাইকেল থেকে স্ত্রী কোলে থাকা শিশুসহ পড়ে যান। এ সময় বাসের আঘাতে স্ত্রী ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাদের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটিও মারা যায়।
তিনি বলেন, বাসটি উল্টোপথে না এলে আজ স্ত্রী ও মেয়েকে হারাতে হতো না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টেপড়া বাসস্ট্যান্ডে আইল্যান্ডের উত্তর পাশে মোটরসাইকেলটি যাওয়ার সময় আইল্যান্ডের উল্টো পথে বিপরীত দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি ধাক্কা দেয়।
এ বিষয়ে বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত গোল্ডেন লাইন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-২০০১) বাসটি উথলী এলাকা থেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাম্মি বলেন, নারীটিকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। ১০ মাস বয়সী শিশুটি তখনও জীবিত ছিল। চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
