
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেস কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশি বাধার মুখে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের নিকটবর্তী আকাশবাণী ভবনের চত্বরে ঢুকে গাছের নিচে ধরনা ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধস্তাধস্তির পর রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে আকাশবাণী ভবনের চত্বরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা অবস্থান নিলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আকাশবাণী ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। কংগ্রেসের লোকসভার হুইপ মানিকম ঠাকুর জানিয়েছেন, দুই কক্ষের ২৩৭ জন বিরোধী সংসদ সদস্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
আন্দোলন চলাকালে রাহুল গান্ধীর হাতে ‘জ্ঞানেস, অনেক হয়েছে ভাই, এবার পদত্যাগ করো’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এই স্লোগানটি মূলত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট থেকে নেয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধী এক্সে (সাবেক টুইটার) করা এক পোস্টে বলেন, ‘এটা এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে জ্ঞানেস কুমার অবৈধভাবে ও একতরফাভাবে ফর্ম ৬ পরিবর্তন করেছেন।’
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এই আন্দোলন চলবে। তিনি অভিযোগ করেন, সারা দেশে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ভোট চুরি করা হচ্ছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে অসততার অভিযোগ তোলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রও এই বিক্ষোভে শামিল হন।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে তাদের পরিকল্পিত বিক্ষোভ প্রতিহত করতে পুলিশ দলের সক্রিয় কর্মীদের নোটিশ দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সুপ্রিম কোর্ট জানান যে তারা সংশোধিত ফর্ম ৬-এর অনুমোদন দেননি। এরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের এ আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়।
