সোমবার ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
গণতন্ত্র সুসংহত করতে নারীর ক্ষমতায়নের পরিধি বাড়াতে হবে: সিইসি কিশোরীর মৃত্যুর পর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে হামলা, আহত ৩০ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার চার মাসেও গতি নেই সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করা জন্য সরকার প্রতিজ্ঞবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরা পৌরশহরে দীর্ঘদিন অচল পুলিশের স্থাপন করা সিসিটিভি দাম বেড়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের বেশি দামে এলপিজি বিক্রির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা নগরায়নের লক্ষ্যে সরকার প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে টাঙ্গাইলে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ট্রাকচালক নিহত, আটক ২
Advertise with us

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার চার মাসেও গতি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার চার মাসেও গতি নেই

চার মাসেও প্রত্যাশিত গতি আসেনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা স্কিমের। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে ফান্ড সংগ্রহে চুক্তি করলেও বিতরণের ধীরগতি দৃশ্যমান। তবে ব্যাংকগুলোর দাবি, এসএমই ও কৃষি খাতে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ শুরু করেছে তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে এই সুবিধা পান, বাংলাদেশ ব্যাংককে তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রণোদনার অর্থ উৎপাদনশীল খাতে না গেলে উদ্দেশ্য বিফলে যাবে।

বেসরকারি খাতকে সহায়তা, বিনিয়োগ বাড়ানো ও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে। এতে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল ও ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থয়ান তহবিল দেয়া হবে। সে অনুযায়ী ফান্ড সংগ্রহে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ১৭টি এবং কৃষির ঋণের জন্য ৪৩টি ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ভিন্ন ভিন্ন খাতে সোনালী ব্যাংক সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংক ১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকায় ফান্ড গঠনে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তবে চার মাসেও খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি বিতরণ কার্যক্রমে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও মিলেছে প্রত্যাশিত গতি না আসার চিত্র। বরাদ্দের ৬০ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৫টি খাতে প্রক্রিয়াধীন ও বিতরণকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে অনেক আবেদন চলে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সেগুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে রেখেছে এবং বিতরণও শুরু হয়েছে।’

সোনালী ব্যাংকের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে অন্তত ১ হাজার কোটি টাকার আবেদন পেয়েছে তারা। সিএমএসএমই খাত ও কৃষিতে প্রায় ৩শ জনকে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা প্রদানের দাবি অগ্রণী ব্যাংকের। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বড় আবেদনের ক্ষেত্রে প্রস্তাবকারীর ঋণের অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসোমা আলম বলেন, ‘ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটা ভালো একটা সুযোগ। তারা এখন এগিয়ে আসছে, তারা শাখায় যোগাযোগ করছে এবং প্রস্তাব আসছে। আমরা এগুলো যাচাই-বাছাই করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা দেয়ার চেষ্টা করছি।’

সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান বলেন, ‘যারা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের বেশিরভাগই কিন্তু এখনও কিন্তু তাদের ঋণগুলো অনিয়মিত আছে। সেগুলা আগে নিয়মিতকরণ করতে হবে, এরপরে কিন্তু প্রণোদনার আওতায় ঋণ দেয়া যাবে।’

এদিকে ঘোষিত প্রণোদনা স্কিমে হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সরকারের নীতি সহায়তাসহ গ্রাহকদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চান তারা।

টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক অধ্যাপক মেহেদী রহমান বলেন, ‘নীতিগত কিছু সমস্যা আছে। ত্রিমুখী সমস্যা আছে। এই যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক, কর্মাশিয়াল ব্যাংক এবং গ্রাহকদের মধ্যে মিটিং হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক কি ছাড় দিতে পারে আর কর্মাশিয়াল ব্যাংক কি করতে পারে এবং আমরা কি করতে পারি এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা না হলে কাজ টা ভালোভাবে আগাবে না।’

পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকটে থাকা কারখানাগুলো কম সুদে নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে এই প্রণোদনা। অন্তত ৫০০ কারখানা চালু করা গেলেও ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে এ সুবিধা পান, সেটি নিশ্চিত করবে হবে।

বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যাদের কারখানায় কাজ চলছে, কিংবা টাকার জন্য কাজ বন্ধ আছে তাদের জন্য এটা খুব ভালো হবে।’

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘কারখানার নামে টাকা নিয়ে সে টাকা যেন পাঁচার না হয় সে বিষয়ে নজরদারি রাখা উচিত।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঋণ বা প্রণোদনার অর্থ উৎপাদনশীল খাতে না গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না বরং উদ্দেশ্য বিফলে যাবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঋণ নেয়ার পর তা যদি কর্মসংস্থান তৈরির পেছনে কাজে না লাগানো যায়, তাহলে তো আর সে ঋণ দিয়ে কোনো লাভ হলো না।’

দুর্বল যাচাই-বাছাই ও ব্যাংকগুলোর কার্যকর তদারকি না থাকলে নতুন ঋণ আবারও খেলাপিতে রূপ নেয়ারও ঝুঁকি দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩
৪৫৭৮৯১০
১১১১৩৪১৫১৬১
৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৯৩০৩১

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়