
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খাতুনগঞ্জে। বিশেষ করে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ভোজ্যতেল, চিনি এবং মসলার দাম বেড়েছে। তবে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়লেও বেচাবিক্রি কম এবং পচনশীল পণ্য হওয়ায় পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯ টাকা ৫৬ পয়সা, পাম অয়েল ১১ টাকা ১ পয়সা ও পাম অয়েল সুপারের দাম ১২ টাকা ৭২ পয়সা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারটিতে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা ৯২ পয়সা, পাম অয়েল ১৫৭ টাকা ৭০ পয়সা ও পাম অয়েল সুপার ১৬৪ টাকা ৩০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৪৯ পয়সা। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা ১২ পয়সায়।
শুধু ভোজ্যতেল আর চিনির বাজার নয়, পাইকারিতে অস্থির হয়ে পড়েছে মসলার বাজারও। বিশেষ করে টক ও মিষ্টি আলুবোখারা, ইরান থেকে আনা জিরা, শ্রীলঙ্কা থেকে আনা জায়ফল ও জয়ত্রী, কিশমিশ এবং পেস্তাবাদামের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ৮২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে মিষ্টি আলুবোখারার দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ৫০০ টাকা ও টক আলুবোখারার দাম কেজিতে ৮২০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ইরান থেকে আনা জিরা ৭২০ টাকা ও শ্রীলঙ্কা থেকে আনা জয়ত্রী ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা থেকে আনা জায়ফল কেজিতে ১৫০ টাকা বেড়ে ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে কিশমিশ ৮২০ টাকা এবং ১ হাজার টাকা বেড়ে পেস্তাবাদাম ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে খাবার সোডা ৫০ টাকায় ও ১৬ টাকা বেড়ে সাগুদানা ৮১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজান ও ঈদের সময় ভোগ্যপণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। ঈদের পর পরই ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার ওপর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে। তাই আমদানীকৃত পণ্যগুলোর দাম বাড়তে শুরু করেছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মো. মহিউদ্দিন বলেন, খাতুনগঞ্জে অধিকাংশ আমদানীকৃত পণ্য। ইরান ও আরব অঞ্চল থেকে আসা কিছু পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কারণ বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যের বুকিং রেট বাড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে। দেশে পণ্য পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এসবের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্যের বাজারে।
এদিকে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম কমেছে। রমজানের শেষ দিকে প্রতি কেজি চায়না আদা ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। একই সময়ের ব্যবধানে কেজিতে ৭৫ টাকা কমে চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। তা ছাড়া বর্তমানে বাজারটিতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মান ও আকারভেদে মিলছে ১৬ থেকে ২৮ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। দেশে জ্বালানিসংকটের কারণ দেখিয়ে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পণ্য আনতে আগে ভাড়া দিতাম ৩০ হাজার টাকা, এখন গুনতে হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। সে হিসাবে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম বাড়ার কথা। কিন্তু একদিকে এগুলো পচনশীল পণ্য, তার ওপর বাজারে এসব পণ্যের বেচাবিক্রি কম। এ জন্য আমরা পণ্যগুলোর দাম বাড়াইনি।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা সব সময় দাম বাড়ানোর একটা ইস্যু খোঁজে। এখন তারা একটা ইস্যু পেয়েছে এবং সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। যেমন–সরকার বলছে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল রয়েছে, কিন্তু ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। নিশ্চিতভাবে এখানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। কাজেই যেসব ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে, সেগুলো কী কারণে দাম বেড়েছে, কখন আমদানি হয়েছে, পাইকারি ব্যবসায়ীর কেনা কত, কত টাকায় বিক্রি করছেন–এসব বিষয় ভালোভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি সরকারের উচিত হবে–আমদানি করার সুযোগ থাকলে সহজে ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার ব্যবস্থা করা ও পণ্যের মজুত বাড়ানো এবং ওই পণ্যের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা।
