রবিবার ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

কুমিল্লা মেডিকেলে গাদাগাদি, পড়ে আছে শিশু হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কুমিল্লা মেডিকেলে গাদাগাদি, পড়ে আছে শিশু হাসপাতাল

হাম সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে রোগীদের চাপ সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের মত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও হিমশিম খাচ্ছে। শয্যার অভাবে বারান্দায় ঠাঁই নিতে হচ্ছে হামে সংক্রমিত শিশুদের।

কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে শিশুদের জন্য নির্মাণ করা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল ভবন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণকাজ শেষ হলেও হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ এবং কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ঠেলাঠেলিতে এখনো চালু করা যায়নি হাসপাতালটি।

তবে হাম সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবের সময় এসে জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জনবল ও যন্ত্রপাতির জন্য জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বেলতলীতে গিয়ে দেখা গেছে, ১০০ শয্যা শিশু হাসপাতাল ভবন পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে চকচকে হাসপাতালটিতে নেই চিকিৎসক, নার্স, আসবাবপত্র এবং যন্ত্রপাতি।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন একর জমির উপর গড়ে তোলা হয় শিশু হাসপাতালের তিনতলা ভবন। সঙ্গে রয়েছে ছয়তলা ও তিনতলা দুটি কোয়ার্টার এবং দোতলা গ্যারেজ। হাসপাতালটির কাজ শেষ ২০২৪ সালে।

প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেড় বছর আগেই হাসপাতালটি হস্তান্তর করতে চেয়েছি। কিন্তু দায়িত্ব কে নেবে এই জটিলতায় এখনো হাসপাতালে জন্য জনবল, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র বরাদ্দ চাওয়া হয়নি। না হয় এতদিনে হাসপাতালটি ব্যবহার উপযোগী হয়ে চালু হয়ে যেত।”

স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ঠিক সময়ে দায়িত্ব নিলে হাম সংক্রমণের এই জরুরি সময়ে হাসপাতালটি এই অঞ্চলের শিশু রোগীদের জন্য অন্যতম আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে সেবা দিতে পারত।

এদিকে সোমবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি তিনটি আইসোলেশন ওয়ার্ড নতুন করার পরও বারান্দায় ঠাঁই নিতে হচ্ছে হামে সংক্রমিত শিশু রোগীদের।

হাসপাতাল ভবনের নিচ তলায় একটি ও দোতলায় মোট তিনটি কক্ষকে হাম সংক্রমিত এবং উপসর্গ পাওয়া শিশুদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। তিনটি কক্ষে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুরের ৩২ জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে।

জায়গা সংকুলান না হয় বেশ কয়েকজন রোগীকে আইসোলেশন ইউনিটের বারান্দায় চাঁটাই পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ আবার আইসোলেশন ইউনিটের মেঝেতেই পেতেছেন বিছানা।

যেখানে একটি আইসোলেশন ইউনিটে রোগীদের নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকার কথা সেখানে খুবই নিরুপায় হয়ে গাদাগাদি করেই শিশুর চিকিৎসার জন্য পড়ে আছেন স্বজনরা।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় মাস বয়সী আয়াতকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন স্বজনরা।

সংকটাপন্ন শিশুটির মা ফারজানা আক্তার বলেন, “আয়াতকে ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। চাঁদপুর জেলায় ভেন্টিলেশনের সুবিধা না থাকায় আমাদের কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা থেকে আসা পাঁচ মাস বয়সী শিশু রাজুর বাবা সুখেন দাশ বলেন, “নবীনগর থেকে ডাক্তার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখানে এসে কোনো সিট পাইনি। তাই বারান্দাতেই চিকিৎসা নিচ্ছি। শুনেছি, আশপাশের এলাকার মধ্যে এখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।”

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, তুলনামূলক ভালো চিকিৎসা হয় বিধায় বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সংক্রমিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা এখানেই আসে। হাসপাতালটিতে শিশু রোগীদের জন্য বরাদ্দ ৪০ বেডের বিপরীতে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন অন্তত তিনগুণ রোগী থাকে। এর মধ্যে হাম সংক্রমণের পর থেকে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।

চিকিৎসক বলেন, “কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বেলতলীতে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা গেলে সেখানে রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত। বিশেষ করে সংক্রমিত রোগের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করতেই সুবিধা হত।

“এ ছাড়া শিশুরা একই ছাদের নিচে সব ধরনের চিকিৎসা সেখান থেকে পেত। আর আমাদেরকেও এখানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিমশিম খেতে হত না।” তবে সবশেষে শিশু হাসপাতালটির দায়িত্ব নিয়েছে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুর বিভাগকে বলা হয়েছিল হাসপাতালটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা বলেছে, তাদের পক্ষে সেটি সম্ভব নয়।

“পরে আমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অল্প কিছু কাজ এবং বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে। ঠিকাদার থেকে তারা এখনো বুঝে পায়নি বলে জানিয়েছে।”

তিনি বলেন, “হাসপাতালটিতে এখনো আসবাবপত্র এবং যন্ত্রপাতি আসেনি। জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। “সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করতে পারব।”

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়