
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গণভোটের ‘গণরায়’ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৬ মে থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করবে দলগুলো।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বৈঠকশেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।
১৬ মে রাজশাহীতে, ১৩ জুন চট্টগ্রামে, ২০ জুন খুলনায়, ২৭ জুন ময়মনসিংহে, ১১ জুলাই রংপুরে, ১৮ জুলাই বরিশালে এবং ২৫ জুলাই সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ হবে।
এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর ও জেলাকে সম্পৃক্ত করার কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আযাদ।
তিনি বলেন, বৈঠকে বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আযাদ বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারা। সবশেষে আগামী অক্টোবরে ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।
সামনে কোরবানীর ঈদ থাকায় ‘বেশি কর্মসূচি দেওয়া যায়নি’ জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতি মাসেই প্রোগ্রাম রয়েছে। তবে ঈদের আগে বেশি প্রোগ্রাম দিতে পারছি না।”
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়েছিল। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা ছিল।
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তাতে সাড়া না পেয়ে সংসদ থেকে ‘ওয়াকআউট’ করে বিরোধী দল।
এরপর জোটের নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ এপ্রিল বিকালে ঢাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে ১১ দলীয় ঐক্য। পরে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ, সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল, সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঢাকায় সেমিনার করে এই মোর্চা।
সেসব কর্মসূচি পেরিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এবার বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি এল।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে মানুষ দায়িত্ব দিয়েছিল সরকার বা রাজনৈতিক দল তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে। সরকার সংসদে ক্ষমতার জোরে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি দাবি করে এখন সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে।
“আমরা এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। গণভোটে জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। জনগণকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন জোরদার করা হবে।”
এদিন মগবাজারের জামায়াতের কার্যালয়ে জোটের বৈঠকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।
