সোমবার ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

চার দিন পর রোদে স্বস্তি,হাওরের কৃষকদের ধান কাটা–শুকানোর ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চার দিন পর রোদে স্বস্তি,হাওরের কৃষকদের ধান কাটা–শুকানোর ধুম

টানা চার দিনের বৃষ্টির পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জে রোদ উঠেছে। এতে বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সকাল থেকেই কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের নিকলী, করিমগঞ্জ ও বাজিতপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা জমিতে পাকা ধান কাটছেন। ট্রাকসহ ছোট-বড় যানবাহনে করে কাটা ধান খলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাড়াইয়ের জন্য। খলায় স্তূপ করে রাখা ধানও কৃষকেরা রোদে নাড়ছেন। অনেককে ভেজা খড় সড়ক ও খোলা মাঠে ছড়িয়ে শুকাতেও দেখা যায়। কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। চারদিকে দেখা গেছে কর্মচাঞ্চল্য।

হাওরের অন্যতম বড় ধান শুকানোর স্থান মজলিশপুর খলা, যা নিকলী-করিমগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত। বোরো মৌসুমে যেখানে প্রতিদিন শত শত কৃষক, কিষানি ও শিশু ধান মাড়াই, শুকানো, ঝাড়া ও সেদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত থাকেন, সেখানে গত চার দিন ছিল নিস্তব্ধতা। আজ সকাল থেকে আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে খলাটি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ সবাই কাজে ব্যস্ত। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই কারও।

কৃষক রইছ উদ্দিন বলেন, ‘তলিয়ে যাওয়া ধানের চেয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম খলায় স্তূপ করে রাখা পাঁচ-ছয় শ মণ ধান নিয়ে। গেল শনিবার শুকানোর জন্য ধানগুলো স্তূপ করে রেখেছিলাম। এক দিন সময় পেলেও শুকিয়ে যেত। কিন্তু টানা চার দিন ভারী বৃষ্টি আর ঝড়–তুফানের কারণে খলায় আসা যায়নি। আজ সকাল থেকে রোদ ওঠায় স্তূপ করে রাখা ধান নাড়তে পারছি। যদিও ধানে কিছুটা সমস্যা হয়েছে, তবু বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।’

করিমগঞ্জের খয়রত হাওরে ৯ জন শ্রমিক দলবেঁধে ধান কাটছেন। তাঁদের নেতা আরজু মিয়া বলেন, ‘নেত্রকোনা থেকে দুই সপ্তাহ আগে কিশোরগঞ্জে এসেছিলাম ধান কাটতে। প্রথমে ভালোই যাচ্ছিল, তবে চার দিন ধরে বজ্রপাতের ভয়ে জমিতে নামার সাহস পাইনি। চার দিন বসে থাকায় আমাদের অনেক লোকসান হয়েছে। আজ থেকে আবার ধান কাটা শুরু করেছি। সামনের দিনগুলোতে যেন রোদ থাকে, সেই দোয়া করি।’

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আজ সকাল থেকে রোদ ওঠায় ও বৃষ্টি না হওয়ায় গতকালের তুলনায় পানি অনেকটা কম বেড়েছে। গতকাল যেখানে ইটনার ধনু-বৌলাই নদে ৪৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল, আজ সেখানে ১৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। করিমগঞ্জের চামড়া ঘাটের মগড়া নদীতে ৬৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধির জায়গায় আজ দুই সেন্টিমিটার পানি কমেছে। অষ্টগ্রামের কালনী নদীতে গতকাল ৬৯ সেন্টিমিটার বাড়লেও আজ বেড়েছে মাত্র এক সেন্টিমিটার। আর ভৈরবের মেঘনা নদীতে বুধবারের হিসাবে ৫৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধির জায়গায় আজ তিন সেন্টিমিটার কমেছে। যেহেতু রোদ উঠেছে, তাই পাউবো থেকে আমাদের নির্দেশনা থাকবে যত দ্রুত সম্ভব কৃষকদের সব ধান কেটে ফেলতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ কয়েকটি উপজেলায় বুধবার বিকেল ৫টার হিসাব অনুযায়ী ৪ হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে। আজ বিকেল ৫টার দিকে মোট ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। তবে আশা করছি, আর বৃষ্টিপাত না হলে কৃষকেরা এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। পানি না বাড়লে যেসব জমি তলিয়ে গেছে, সেগুলোর কিছু অংশ ভেসে উঠবে এবং কিছু ধানও কৃষকেরা তুলতে পারবেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়