নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন বর্তমানে যুদ্ধবিরতিতে রূপ নিলেও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার (৪ মে) মার্কিন ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরুর মাধ্যমে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলায় দুটি কার্গো জাহাজে অন্তত পাঁচজন নাবিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর- আইআরজিসি ঘনিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজ দুটি ওমানের খাসাব বন্দর থেকে ইরানের উপকূলে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি নৌযান ডুবিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হলে অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই এই ঘটনার তথ্য সামনে আসে।
অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েট প্রেস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড–এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ছয়টি ছোট নৌযান ডুবিয়েছে।
তবে এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরান বলছে, সোমবার (৪ মে) যুক্তরাষ্ট্র ইরানি নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ ডুবাতে পারেনি।
ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।