বৃহস্পতিবার ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ইয়াবা, কুশ ও কেটামিনের মতো মাদক তৈরি হচ্ছে ঢাকায় ‘মিনি ল্যাবে’, চক্রে বিদেশিরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইয়াবা, কুশ ও কেটামিনের মতো মাদক তৈরি হচ্ছে ঢাকায় ‘মিনি ল্যাবে’, চক্রে বিদেশিরাও

অস্ত্রোপচারের আগে রোগীদের চেতনানাশক ওষুধ হিসেবে তরল কেটামিন ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষেধ। এই তরল কেটামিন বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাউডারে রূপান্তর করে এখন মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর সেই কাজ হচ্ছে ঢাকায় বসে।

‘মিনি ল্যাব’ স্থাপন করে এমন মাদক তৈরির চক্র সম্প্রতি ধরা পড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে। গত ২৫ মার্চ উত্তরার একটি বাসায় চালানো সেই অভিযানে চীনের তিন নাগরিককে গ্রেপ্তারও করা হয়। তাঁদের কাছে তরল কেটামিন সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় দুজন ওষুধ বিক্রেতাকে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এই চক্র মাদক তৈরি করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কায় পাঠাত। তারা ‘অর্ডার’ নিত ডার্ক ওয়েবে। লেনদেন চলত ক্রিপ্টো কারেন্সিতে।

শুধু কেটামিনই নয়, রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশে মিনি ল্যাব বসিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক তৈরি করছে, এমন আরও তিনটি চক্রের সন্ধান সম্প্রতি পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, গত চার মাসের ব্যবধানে ঢাকায় ভয়ংকর অপ্রচলিত মাদক কুশ ও কেটামিনের ল্যাব পাওয়া গেছে। ইয়াবার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে নতুন ধরনের ইয়াবা তৈরির একটি কারখানারও সন্ধান পাওয়া গেছে। এর বাইরে একটি মদের ল্যাবও পাওয়া গেছে, যেখানে ভেজাল মদ তৈরি করা হচ্ছিল। সব কটি চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে।

টঙ্গীতে ইয়াবার ল্যাব

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ডিএনসি। সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে ল্যাবের মালিক তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তোহিদুজ্জামান প্রথমে ৫০০ ইয়াবা সংগ্রহ করে সেগুলো গুঁড়া করে রং ও বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে নতুন করে প্রায় পাঁচ হাজার ইয়াবা তৈরি করতেন বলে জানতে পারেন ডিএনসির কর্মকর্তারা।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, তোহিদুজ্জামান গাজীপুরের পুবাইলে একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানে ডায়েসে ট্যাবলেট তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চার মাস আগে ইয়াবা উৎপাদনে যুক্ত হন। পরে চাকরি ছেড়ে একটি।

ওয়ারীতে কুশের ল্যাব

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শিখে এসে রাজধানীর ঢাকার ওয়ারীতে বাসায় ল্যাব স্থাপন করে অপ্রচলিত মাদক ‘কুশ’ চাষের অভিযোগ উঠেছে তৌসিফ হাসান (২২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ৭ জানুয়ারি তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে এই মিনি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। তৌসিফ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় থেকে্ই এ ল্যাব চালাতেন। এ কাজে তাঁকে সহায়তার অভিযোগে তাঁর এক বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, তৌসিফের থাকার কক্ষে কুশ (উন্নত জাতের মারিজুয়ানা) চাষের জন্য একটি ল্যাব তৈরি করা হয়। ওই ল্যাব থেকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আনা কুশের বীজ, চাষ করা কুশগাছ, সদ্য তোলা কুশ, চাষের উপকরণ, সিসা সেবনের উপকরণ ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। পরে বাসার ছাদে টিন ও ফয়েল পেপার দিয়ে বানানো তাপমাত্রানিয়ন্ত্রিত একটি ঘরের মধ্যে অনেকগুলো কুশগাছ চাষের টব পাওয়া যায়।

ভাটারায় ভেজাল মদের কারখানা

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পাশের জোয়ারসাহারা এলাকায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানের সময় একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে একটি মিনি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই ল্যাবে ভেজাল মদ তৈরি করা হচ্ছিল। সেখান থেকে ভেজাল মদ তৈরির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও ভেজাল মদ তৈরির রাসায়নিকও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, ফ্ল্যাটটির একাধিক কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছিল ভেজাল মদ প্রস্তুত, বোতলজাত ও সংরক্ষণের কাজে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাত করা হতো। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, বিয়ার ও ওয়াইন। বিপুল পরিমাণ ভেজাল মদ ও তৈরির কেমিক্যাল। ভেজাল মদ তৈরির জন্য সংরক্ষিত তরল ‘ওয়াশ’।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধীরা নানাভাবে সক্রিয় হচ্ছে। বৈশ্বিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তারা মাদক পাচারে জড়িত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় মাদকের কয়েকটি ল্যাবের সন্ধান মিলেছে। একটি বিদেশি চক্রকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে মাঠে ডিএনসির সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়