
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড ভেনেজুয়েলায় নতুন করে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার সন্ধ্যায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর শুক্রবার দেশটির উত্তর উপকূলে ৪.৯ মাত্রার নতুন ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মৃদু এই ভূমিকম্পটির প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য এখনও জানা যায়নি।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইএমএসসি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটি উত্তর ভেনেজুয়েলার ম্যারাকে শহর থেকে ৬১ কিলোমিটার (৩৬ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে আঘাত হেনেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি বুধবারের দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়া ও আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরপর আঘাত হানা এই ভয়াবহ দুর্যোগের কারণেই মূলত উত্তর ভেনেজুয়েলাজুড়ে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বুধবারের জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভুমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস অনুমান করছে, এই বিপর্যয়ে হতাহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শত শত মানুষ এখনও ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকায় এই আশঙ্কা আরও তীব্র হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। ১৭২ জনেরও বেশি মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। এ ছাড়া নিখোঁজের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
শুক্রবার ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কিছু এলাকায় লোকজনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হবে। এরই মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ এবং জীবিতদের খোঁজে নিজেরা দল গঠন করছেন। এমনকি কেউ কেউ তাদের নিজস্ব যানবাহনগুলোকে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবেও ব্যবহার করছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকার ইতিমধ্যেই ‘এক্স’ এর মতো সামাজিকে যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে ব্লক করে রাখা হয়েছিল। আলজাজিরা ও ফার্স্টপোস্ট এর তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজ ও জরুরি যোগাযোগের সুবিধার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস, যার ছয় বছরের ছেলে এবং আরও পাঁচজন আত্মীয় এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘স্থানীয় মানুষ বা এই কমিউনিটির উদ্যোগেই কেবল মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের ভারী স্ল্যাবগুলো সরানোর জন্য এখন ক্রেন দরকার। এখনও অনেক মানুষ ভেতরে আটকে আছে।’
