রবিবার ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে শিক্ষকদের অবসরের টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে মনোনীত হলেন রিজভী-আমানসহ চারজন দেশপ্রেমিক-গণতান্ত্রিক দল বিএনপির মূল কারিগর বেগম খালেদা জিয়া আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শিপইয়ার্ড যেন মৃত্যুপুরী:গত এক যুগে দুর্ঘটনায় ১৪৮ জন নিহত,২৭৯ জন আহত নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ৫০০ বেডের নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে অর্থমন্ত্রী একযোগে পুলিশের ৪৯ ইন্সপেক্টরকে বাধ্যতামূলক অবসর চট্টগ্রামে বিলের মাঝে রাতে আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে নিহত ১
Advertise with us

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প;সরিয়ে নেয়া হচ্ছে লোকজনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প;সরিয়ে নেয়া হচ্ছে লোকজনকে

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আজ (শনিবার, ১৫ আগস্ট) ভোরে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর কর্তৃপক্ষ সুনামির সতর্কতা জারি করেছে। ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের এলাকা নাগেকেও রিজেন্সির বাসিন্দারা দ্রুত উঁচু জায়গায় চলে গেছে। এসময় সমুদ্রের পানি হঠাৎ সরে যেতে দেখা যায়। এটি আসন্ন সুনামির একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। পরে সুনামির সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

মার্কিন ও ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগভীর ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলের অদূরে, উপকূলীয় শহর এন্ডে থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর একই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। এর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬.১।

মাউমেরে শহরের বাসিন্দা ও একটি হাসপাতালের ৩১ বছর বয়সী গ্রাহকসেবা কর্মকর্তা লুকাস লোতার বলেন, ‘হঠাৎ সবকিছু কাঁপতে শুরু করায় এবং আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের রোগীরাও বাইরে বেরিয়ে যায়। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি ছিল খুব শক্তিশালী এবং হাসপাতালের কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে।’

নাগেকেওর ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা ইয়োহানেস বাবো জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি বাজারে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘কম্পন খুব শক্তিশালী ছিল। সৌভাগ্যক্রমে, আমরা তখন ঘরের বাইরে ছিলাম।’

স্থানীয়রা জানান, মানুষ আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা নিরাপদে থাকতে এবং পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

উঁচু এলাকায় যাওয়ার আহ্বান
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) ভূমিকম্পের পর সুনামির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মানুষকে দ্রুত উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (বিএনপিবি) কর্মকর্তা আবদুল মুহারি ফ্লোরেসের উত্তর উপকূল, দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপগুলো এবং দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বাসিন্দাদের উপকূল থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তত দুই কিলোমিটার ভেতরের দিকে অথবা ১০ মিটারের বেশি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় চলে যাওয়া উচিত।’

বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি বিভাগের পরিচালক উইজায়ান্তো জানান, সুনামির সম্ভাবনা নিয়ে করা মডেলিংয়ে পূর্ব নুসা তেংগারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশে ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। এ কারণে ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ৩ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

উইজায়ান্তো বলেন, ‘আমরা সুনামির সতর্কতা প্রত্যাহার করেছি। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবো।’

কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর জানায়নি। তবে তারা জানিয়েছে, সমুদ্রে ১৯ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ শনাক্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পপ্রবণ ইন্দোনেশিয়া
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও এর আশপাশের দেশগুলোতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। জাপান থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকায় ব্যাপক ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ দেখা যায়।

ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর একটি ছিল ২০০৪ সালের ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প। সুমাত্রার উপকূলের কাছে ওই ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে। এতে পুরো অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতেই মারা যান প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

‘বক্সিং ডে’ নামে পরিচিত ওই বিপর্যয় ছিল ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

এছাড়া ২০১৮ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপ কেঁপে ওঠে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে একাধিক ভূমিকম্পে লম্বক ও পাশের সুমবাওয়া দ্বীপে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

একই বছরের শেষ দিকে সুলাওয়েসি দ্বীপের পালুতে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে। এতে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়