
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর অস্থায়ী ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যারা যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসে স্থায়ী হওয়ার আবেদন করেছেন তাদের চিহ্নিত করে ভিসা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ পদক্ষেপের আওতায় আসছে গত ১০ বছরে ইস্যু করা সব ব্যবসায়িক বি-ওয়ান এবং পর্যটন বি-টু ভিসা। এদিকে, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলারের বেশি ফি ধার্য করার বিষয়টি স্থায়ী করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি দ্রুত নিজ দেশে ফেরতও পাঠানো হয়েছে বহু বিদেশি নাগরিকদের। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশিদের ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এ পদক্ষেপ শুধু অবৈধ অভিবাসন নয়, বৈধ অভিবাসননীতিও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এবার অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবে, দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ী ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসে স্থায়ী হওয়ার আবেদন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে ভিসা বাতিল করা হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দুই লাখ ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিল হবে। যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা।
এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা সব ব্যবসায়িক বি-১ ও পর্যটন বি-২ ভিসা এর আওতায় আসবে। তবে ভিসা বাতিল হলেই তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের বের করে দেয়া হবে না। অস্থায়ী ভিসার মর্যাদা হারালেও আবেদনকারীরা ভিসা নতুন শ্রেণিতে পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।
সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অভিবাসনব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ভিত্তিহীন ও ভুয়া আশ্রয় আবেদনে ভরে গেছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ এরই মধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য দেয়া এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের কাজ করার খরচ বাড়বে। এতে করে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন ভারতীয়রা। কারণ এই ভিসার সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশের বেশি ভারতের নাগরিক।
শুধু ফি নয় এইচ-১বি কর্মীদের নির্দিষ্ট শর্তে নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সুযোগও কমতে পারে। এর ফলে চাকরি শেষ হলে কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।
