
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশ সচিবালয় বিটে কর্মরত দুই অসুস্থ সাংবাদিকের চিকিৎসা এবং প্রয়াত দুই সাংবাদিকের পরিবারের সহায়তায় মোট ২০ লাখ টাকা দিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন (এবিজি ফাউন্ডেশন)।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিআইএএম অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠানে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে চার সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের হাতে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদার ও হুমায়ুন কবির খোকনের পরিবারের জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে এবং অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিন ও আমানুর রহমানের চিকিৎসার জন্য সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
এবিজি ফাউন্ডেশনের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মো. ইমরুল হাসান, ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব এ অ্যান্ড এফ, ইডাব্লিউপিডি এবং বিসিডিএল; মোহাম্মদ হুসাইন আরজু, হেড অব ডিভিশন (আরঅ্যান্ডডি), এবিজি বসুন্ধরা এবং মো. সাজেদুল করিম, জেনারেল ম্যানেজার, জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং, এবিজি ফাউন্ডেশন।
দৈনিক ইনকিলাবে কর্মরত প্রয়াত সাংবাদিক হারুন অর রশিদ তালুকদারের পরিবারের পক্ষে চেক নেন তার ছেলে মো. তৌহিদ হারুন।
চেক গ্রহণের পর তৌহিদ হারুন বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ ছিলেন।
আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করবো তারা এইভাবে সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।’
দৈনিক আমাদের সময়ের প্রধান প্রতিবেদক ও প্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনের পরিবারের পক্ষে পাঁচ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা রিনা।
স্বামী হারানোর পর আবারও বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
শারমিন সুলতানা রিনা বলেন, ‘আমার স্বামী কভিডে মারা গেছেন। সেই সময়েও বসুন্ধরা গ্রুপ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আজকে আবার যখন আমাকে এই চেকটি দিলেন, এটা আমাদের জন্য ভীষণ প্রয়োজন ছিল। আমাদের জীবনটা এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই মুহূর্তে এটা আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া।’
এদিকে দৈনিক সংবাদের অসুস্থ সাংবাদিক রাকিব উদ্দিনের পক্ষে পাঁচ লাখ টাকার চেক নেন তার স্ত্রী নাসরিন জাহান।
এবিজি ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবিজি গ্রুপকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার অসুস্থ স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য।’
চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন দৈনিক নয়াদিগন্তের সাংবাদিক আমানুর রহমানও। তার হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
এ উদ্যোগের প্রশংসা করে আমানুর রহমান বলেন, ‘আনভীর বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আল্লাহ যেন তাদের এই প্রয়াস ও ডেডিকেশনকে কবুল করেন।’
তিনি আরও বলেন, অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাংবাদিক পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও সাংবাদিকরা তাদের পাশে পাবেন, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে এবিজি গ্রুপের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মো. ইমরুল হাসান, ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব এ অ্যান্ড এফ, ইডাব্লিউপিডি এবং বিসিডিএল।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা একটি স্বচ্ছ সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন। তাদের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা হয়।
মো. ইমরুল হাসান বলেন, ‘সাংবাদিকরা স্বচ্ছ সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন। তাদের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখি। কিন্তু সেই স্বপ্নের কথা লিখতে গিয়ে যখন কলম চালানো মানুষটি আর্থিক অনটনের মধ্যে থাকেন, তখন অনেক সময় মনের ভাবটা সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরতে পারেন না। এ জন্য সাংবাদিকদের আর্থিক সচ্ছলতা প্রয়োজন।’
তিনি জানান, এবিজি গ্রুপ সবসময় সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে। পাশাপাশি এবিজি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নানা ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এবিজি ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মো. ইমরুল হাসান বলেন, ‘সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের সহযোগিতা করতে পেরে আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি।’
চার সাংবাদিক পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান বিএসআরএফের সভাপতি মাসুদুল হক।
তিনি জানান, এবিজির সহায়তায় বিএসআরএফ-এবিজি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড চালু করা হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদলের পরিচালনায় বিএসআরএফের প্রতিষ্ঠাকালীন ও দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম শাহীন, সাবেক সভাপতি শ্যামল সরকার ও তপন বিশ্বাস এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান।
সাধারণ সম্পাদকের বার্ষিক প্রতিবেদন ও অর্থ সম্পাদকের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যথাক্রমে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদল ও অর্থ সম্পাদক মাহমুদ আকাশ।
এদিকে সাংবাদিকদের ভালো ও দায়িত্বশীল কাজকে উৎসাহিত করতে বিএসআরএফ ও এবিজি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড আয়োজনের কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ইতিবাচক প্রতিবেদনকে উৎসাহিত করতেই এ পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের স্পন্সর হিসেবে থাকবে এবিজি ফাউন্ডেশন।
এবিজি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রমজানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সেহরি ও ইফতারের আয়োজন, নিয়মিত অসহায় ও এতিমদের খাবার বিতরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার মতো কার্যক্রমও রয়েছে ফাউন্ডেশনটির।
মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ সচিবালয় বিটের চার সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালো এবিজি ফাউন্ডেশন। চার সাংবাদিকের জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া মোট ২০ লাখ টাকার এ সহায়তা তাদের সংকটের সময়ে সহযোগিতার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
