শনিবার ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন জেলেরা

চাঁদপুর অঞ্চলে পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার এলাকাসহ দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। এদিন মধ্যরাত থেকে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন চাঁদপুরের জেলেরা। জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই জেলেরা নৌকা মেরামত ও জাল সেলাইয়ের কাজও শেষ করেছেন।

ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় গত মার্চ ও এপ্রিল মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাসহ ছয়টি নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা ছিল।

চলতি এপ্রিলে জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় এর প্রভাব পড়েছে জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচি অভিযানে। ফলে শেষদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতে জোরালো অভিযান পরিচালনা করতে বেগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে অনেক অসাধু জেলে সুযোগ নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবাধে জাটকাসহ বিভিন্ন মাছ আহরণ করেছেন।

এদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকার জেলে নরুল ইসলাম, ইব্রাহিম মিজি, পুরান বাজার রনাগোয়াল এলাকার জেলে সফিক মাল জানান, সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা তারা মেনেছেন। কিন্তু এই সময়ে সংসার চালাতে তাদের বেশির ভাগেরই বিভিন্ন এনজিও কিংবা ব্যক্তির কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে।

তারা বলেন, তাদের জেলেদের অনেকেরই এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিন কাটছে। আবার সময়মতো ঋণ শোধ করতে না পারলে চরম বিপদের আশঙ্কাও রয়েছে তাদের। যদিও সরকার এই অভিযান চলাকালে খাদ্য সহায়তা হিসেবে নিবন্ধিত জেলেদের চাল বিতরণ করেছে।

ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, আজকের জাটকা আগামী দিনের বড় ইলিশ। যদি নির্বিচারে এসব জাটকা বা ছোট ইলিশ ধরা হয়, তাহলে আগামীতে ইলিশ উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। যদি এই বছর ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জাটকা সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে দেশে পৌনে ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, চাঁদপুর অঞ্চলে তথা পদ্মা মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভায়াশ্রমের তীরবর্তী এবং পুরো জেলায় ৩৯ হাজার ৪০০ জেলের প্রতিজনের বিপরীতে সরকার এই কর্মসূচিতে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ মাসের মধ্যে প্রতিমাসে ৪০ কেজি করে খাদ্য হিসেবে চাল বরাদ্দ দেয়। যার প্রথম ২ মাসের চাল বণ্টন শেষ হয়েছে। এপ্রিল এবং মের বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এছাড়া এবারই নদী তীরবর্তী এলাকার ৮ হাজার ৫০০ জেলেকে ২৭ কেজি ওজনের ৭ ধরনের খাদ্যশস্য দেওয়া হবে। এরমধ্যে আলু, তেল, আটা, ডাল, লবণ, চিনি এবং পেঁয়াজ রয়েছে। এগুলো সোমবার থেকে দেওয়া হবে।

তিনি আরো জানান, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের এবারের ৬০ দিনের অভিযানে ১০ লাখ মিটার জাল, ১৮০ জেলেকে আটক করে জেলে দেওয়া হয়েছে। ৪২টি জেলে নৌকা জব্দ করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ২০৮টি এবং ৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়