
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আসামি অর্থদণ্ডের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় এবং তা ভিকটিমকে দিতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিন বছর আগে ঢাকার মাতুয়াইলে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে তার সৎ মামাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বুধবার এ রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, আসামি সোহান আলম তপুকে যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামি অর্থদণ্ডের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় এবং তা ভিকটিমকে দিতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণারর আগে তপুকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান পঙ্কজ পিটার গোমেজ।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “অভিযুক্ত সোহান আলম তপু সম্পর্কে ভিকটিমের মামা। নাবালিকা এবং শিশু ভিকটিমকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে অভিযুক্ত চরম অনৈতিকতা এবং বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে।
“বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ একটি ভয়াবহ অপরাধের রূপ ধারণ করেছে। উপরন্ত শিশুদের প্রতি এ জাতীয় যৌন নির্যাতন দেশীয় আইন অনুযায়ী শুধু নয়, সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপন্থি।”
বিচারক বলেন, “অভিযুক্তের কৃত কর্ম বিবেচনায় এবং ভবিষ্যতে যেন অপর কোনো ব্যক্তি এ ধরনের বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ ঘটাতে না পারে, সে কারণে আসামিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া আবশ্যক। তবে অভিযুক্ত সোহান আলম তপুর বর্তমান বয়স এবং হাজতবাস কাল (২০২৩ সালের ১৪ মে থেকে কারাগারে) বিবেচনায় তাকে সংশ্লিষ্ট ধারায় উল্লেখিত সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হল।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, তপুর মা কদমতলী থানার মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালে আয়ার কাজ করতেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ঘটনার চার দিন আগে শিশুটির মা তার ছোট ভাইয়ের নিউমোনিয়ার চিকিৎসা করাতে ওই হাসপাতালে যান। তপু সম্পর্কে শিশুটির সৎ মামা।
২০২৩ সালের ৮ মে রাত ৮টার দিকে তপুর মা ওই মেয়েটিকে নিয়ে বাসায় যান। রাত ২টার দিকে আবার তাকে হাসপাতালে দিয়ে যান। পরদিন শিশুটি তার মাকে জানায়, সে চোখে ব্যথা পেয়েছে। পরে সে মাকে জানায়, তপু খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের চাচাতো ভাই ১০ মে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ২৬ মে তপুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন কদমতলী থানার এসআই মহসীন চৌধুরী।
২০২৪ সালের ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ৯ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত।
এরপর আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। তারপক্ষে চারজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।
মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক বুধবার আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করলেন।
