নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখনো সবচেয়ে আলোচিত নাম সাকিব আল হাসান। মাঠে নেই, তবু প্রতিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তিনি। দেশের বাইরে থেকেও বাংলাদেশের ক্রিকেটকে যেন ছায়ার মতো অনুসরণ করছেন এই এক সময়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু দেশের মাটিতে ফেরার পথ আটকে আছে মামলা, অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায়।
দীর্ঘ নীরবতার পর এবার একটি বাংলাদেশি গণমাধ্যমে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সেখানে নিজের কষ্ট, ক্ষোভ, রাজনীতি, ক্রিকেটে ফেরা এবং মামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
“বলেছে ১ কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে”—একটি বাক্যেই যেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরলেন সাকিব আল হাসান। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনের মাধ্যমে এমন প্রস্তাব এসেছে তার কাছে। তবে টাকা দিয়ে ‘সমাধান’ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
সাকিব বলেন, “টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক।”
দেশে ফিরতে না পারার কষ্টও স্পষ্ট তার কথায়। তিনি জানান, দেশে ফিরতে চাইলেও এখন সবচেয়ে বড় বাধা দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা শঙ্কা। তাঁর ভাষায়, “মব হতে পারে, সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে, কত কিছুই তো হতে পারে।”
জাতীয় দলের জার্সি মিস করেন কি না—এমন প্রশ্নে সাকিবের উত্তরেও ছিল চাপা বেদনা। তিনি বলেন, “জাতীয় দল তো জাতীয় দলই, এটার কোনো বিকল্প হয় না।”
যদিও সব কিছুর পরও ক্রিকেট ছাড়ার কথা ভাবছেন না তিনি। সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান, বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে। এমনকি ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়েও আশাবাদী এই অলরাউন্ডার।
রাজনীতিতে আসা নিয়ে অনুশোচনা আছে কি না—এ প্রশ্নেও সোজাসাপ্টা জবাব দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তাঁর দাবি, “আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না; ১ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর পরে মনে হয় সেটাই ঠিক ছিল।”
এক সময় যাকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট স্বপ্ন দেখত, সেই সাকিব এখন যেন সময়, রাজনীতি ও বাস্তবতার এক জটিল লড়াইয়ের মুখোমুখি। তবু তাঁর কণ্ঠে এখনো ফেরার আকাঙ্ক্ষা, মাঠে নামার আত্মবিশ্বাস আর নিজের সত্যটা বলার সাহস স্পষ্ট।