মঙ্গলবার ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

পাকিস্তানকে বলে কয়ে হারাল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পাকিস্তানকে বলে কয়ে হারাল বাংলাদেশ

আগুনের গোলার কতটা কাছাকাছি ছিল বলটা, সেটি মোহাম্মদ রিজওয়ানই ভালো বলতে পারবেন। দর্শক শুধু দেখেছে অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে পিচ করে বলটা ধাঁই করে ঢুকে গেল স্টাম্পের দিকে।

১৪৭ কিমি গতির বলের পথটা আন্দাজ করতে ভুল করে ব্যাট উঁচিয়ে সেই রাস্তা করে দিলেন রিজওয়ানই। লাল আলো জ্বলে ওঠা বেলস লাফিয়ে উঠল, লাফিয়ে উঠল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি।

একটি মাত্র দৃশ্যের বর্ণনা এটি। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে সাক্ষী রেখে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা আজ এমন আরও অনেক দৃশ্যেরই অবতারণা করলেন যে, তাতে লাফিয়ে উঠতে বাধ্য হলো স্বল্প উপস্থিতির গ্যালারির সৌভাগ্যবান দর্শকেরা।

পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা না বলে বলা উচিত আসলে বাংলাদেশের বোলাররা। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তানকে আটকে দিতে যার যে অস্ত্র আছে, সব নিয়েই তো ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাঁরা! তাসকিন আহমেদ আর টেস্টে দ্বিতীয় ৫ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা দেখালেন গতির প্রদর্শনী।

পঞ্চম দিনের উইকেটে দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামই বা কম গেলেন কোথায়! বাংলাদেশের পেস-স্পিন মেশানো বিষেই নীল হয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তান হেরে গেল ১০৪ রানে।

দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে জেতা সিরিজের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের জয়টাও যেন আজ এল ছক কষে, বলে কয়ে! মিরপুর টেস্ট জিততে শেষ দিনে দুটি করণীয় ঠিক করেছিল বাংলাদেশ। এক. সকালে ২০-২৫ ওভার ব্যাটিং করে লিডটা ২৬০-২৭০ এ নিয়ে যাওয়া। দুই. পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের জন্য অন্তত ৭০-৭৫ ওভার বোলিংয়ের সময় হাতে রাখা, যেন তাদের অলআউট করার সুযোগ থাকে।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টেস্টের শেষ অঙ্ক গুলো ঠিক এভাবেই মঞ্চস্থ হলো। প্রথম সেশনে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে আরও ৮৮ রান যোগ করে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে পৌঁছে ইনিংস ঘোষণা বাংলাদেশের।

চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের টার্গেট ২৬৮ রান। আলো থাকলে খেলা হওয়ার কথা সর্বোচ্চ সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত, শেষ দুই সেশনে ওভার হতে পারত ৭২টি। কিন্তু টেস্টের আগের চার দিনের কোনো দিনই খেলা বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের পর যায়নি। কাজেই যা করার তা পর্যাপ্ত আলো থাকতে থাকতেই করতে হতো, যেটি করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

বাংলাদেশের ইনিংসে ১৫০ বলে ৮৭ রানে আউট হয়ে যাওয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরি না হওয়ার হতাশা থাকতে পারে। ৬৮ তম ওভারে নোমান আলীকে প্রথম বলেই রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ, রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি নাজমুল।

তবে পাকিস্তানকে বিপদে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা গেছে ২৬৭ রানের লিডেই। লাঞ্চের মিনিট বিশেক আগে তাদের ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর বাকি কাজটা ছিল বোলারদের। নাজমুলের বিচক্ষণ অধিনায়কত্বে সেটা ভালোভাবে করতেও শুরু করে তারা। লাঞ্চের আগে ৪ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ইমাম-উল হককে পাকিস্তান হারিয়েছে ইনিংসের প্রথম ওভারে। তাসকিনের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান পাকিস্তানের ওপেনার।

১ উইকেটে ৬ রান নিয়ে লাঞ্চ। চা বিরতির আগে দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তান হারিয়েছে আরও ২ উইকেট, এই সেশনে রান যোগ হয় ১১০। প্রথম ইনিংসে অভিষেকেই সেঞ্চুরি পাওয়া আজান আওয়াইসকে ১৩তম ওভারে বোল্ড করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আবদুল্লাহ ফজলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যাওয়া ৫৪ রানের জুটিটা ভেঙে যায় তাতে। দুই ওভার পর নাহিদ রানার বলে ব্যাটের কানায় লেগে কট বিহাইন্ড অধিনায়ক শান মাসুদও। পাকিস্তানের জন্য কঠিন হতে থাকে পরিস্থিতি, যেটিকে কিছুটা সহজ করে এনেছিল চতুর্থ উইকেটে ফজল-সালমান আগার ৫১ রানের জুটি।

৩২তম ওভারে ৬৬ রানে পৌঁছে যাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউ করে বড় ব্রেক থ্রুটা দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। পরের ওভারেই আবার তাসকিন, এবার সাদমান ইসলামের হাতে গালিতে ক্যাচ সালমান আগা।

১২১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তখন অনেকটাই পথ হারা। জয়ের চেয়ে ড্রয়ের দিকেই যেন চলে যায় তাদের মনোযোগ। পরের ১০ ওভারে সৌদ শাকিল আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের খোলসে ঢুকে পড়া ব্যাটিংয়ে এই ১০ ওভারে যোগ হয় মাত্র ২৮ রান।

তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি পাকিস্তানের। ৪৫তম ওভারে আরেকবার বোলিংয়ে এসেই তাদের সব সম্ভাবনা ‘আগুনে’ পুড়িয়ে দেন নাহিদ। ৪৫, ৪৭ ও ৪৯—নিজের টানা তিন ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে বাংলাদেশের গতির রাজা তুলে নেন সৌদ, রিজওয়ান আর নোমান আলীর উইকেট। মাঠে ইনিংসের ৪৮তম ওভারে তাইজুলও হাসান আলীকে এলবিডব্লিউ করায় ১৫২ থেকে ১৫৮, এই ৬ রানেই পাকিস্তান হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। ম্যাচটাও বলতে গেলে ওখানেই শেষ।

কিন্তু নাহিদের যে তখনো ক্ষুধা মেটেনি! ৫৩তম ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে মাহমুদুল হাসানের ক্যাচ বানিয়ে সেটিও মিটিয়ে ফেলেন তিনি। হ্যাঁ, ইনিংসে ৫ উইকেট। বাংলাদেশের দারুণ জয়ের মুকুটে যেটি যোগ করল আরেকটি পালক।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়